বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তলানিতে এসে থেকেছে। আরও সংকট বেড়েছে ভারতের সঙ্গে বিরোধিতা করে। কারণ ভারত এবং বাংলাদেশের উভয়েরই বাণিজ্যিক একটা বড় ক্ষেত্র নির্ভর করে একে অপরের ওপর। কিন্তু মোহাম্মদ ইউনূসের জমানায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তাতে সীমান্তবর্তী এলাকা কড়াকড়ি করতে হয়েছে ভারতকে। আর এতেই বড় সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার সিংহাসনে পাকাপাকিভাবে বসার পরে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে ধাক্কা খেয়েছে পদ্মাপাড়ের দেশ। এমনকি ইউনূস প্রবলভাবে চেষ্টা করেছিলেন, বাংলাদেশে আসুক বৈদেশিক মুদ্রা। সেই কারণে বহু জায়গায় দরবার করেছেন তিনি। আসলে অনেক রাজনৈতিকবিদ বলছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। কি প্রতিশোধ। চলুন আলোচনা করা যাক।
হিলারি ক্লিনটন, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যে হিলারি ক্লিন্টনের নির্বাচনের অর্থায়ন করেছিলেন একজন। যে স্মৃতি একদম ভোলেননি তিনি। যে কারণে নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে এত পরিমানে শুল্ক অত্যন্ত চাপের। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। শুধুমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই এমন নজিরবিহীন ঘটনা করে দেখালো ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার উপর ২৫ শতাংশ, ভারতের উপর ২৫ শতাংশ, চীনের উপর ২২ শতাংশ অথচ বাংলাদেশের উপর ৩৭ শতাংশ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসতেই বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য করছেন। শুধু তাই নয়, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা মার্কিন ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। কিছুদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের এক ওয়ার্কিং সেশনে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের রাজনীতি শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে এমন এক সংস্থা ২৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যে সংস্থার নাম আগে কেউ শোনেনি, এমনকি সেই সংস্থায় মাত্র দুজন কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন অভিযোগে সমস্যায় পরবে না তো বাংলাদেশের সরকার?
এর আগে দেখা গিয়েছিল, চলতি মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের ডিওজিই বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অনেক প্রকল্পের অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল।
ডিওজিই (DOGE)ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছিল, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া ২৯ মিলিয়ন অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তখনকার মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তার জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। ডিওজিইর ওই বক্তব্যের পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনীতি শক্তিশালী করতে ২৯ মিলিয়ন ডলার এমন এক সংস্থার কাছে গেছে, যে সংস্থার নাম আগে কেউ শোনেনি। তিনি বলেন, ছোট একটি সংস্থা, এখান থেকে ১০ হাজার ডলার, সেখান থেকে ১০ হাজার ডলার পায়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে ২৯ মিলিয়ন ডলার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় বসতেই চাপে পড়েছেন ইউনূস। পাশাপাশি তার একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, চিন্তায় ফেলছে বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশগুলিকে।
Discussion about this post