বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের এসএসসি মামলার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্য় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করে দিলেন। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্য় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার বহু প্রতিক্ষিত এসএসসি মামলার রায় ঘোষণা করলেন। ২০১৬ সালের এসএসসি-র শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই মামলার শুনানির শেষে ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে চাকরিহারা হলেন ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটা পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ দুর্নীতির নজির হয়ে থাকলো। রায় ঘোষণার পরই বিরোধী দলের নেতারা তুলোধনা শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্র্সকে। সূত্রের খবর, বিপদ বুঝে ইতিমধ্যেই নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে সেটা ঠিক করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট রায়দান করতে গিয়ে উল্লেথ করেছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কিছু নেই। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রায়ের কপিতে বলেছেন, ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল, আগামী তিনমাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা ফিরদৌস সামিম বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তিনি আরও বলেন, যারা প্রকৃতই অযোগ্য তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে।
বাইট – ফিরদৌস সামিম, আইনজীবী, সিপিএম নেতা
এই রায় সামনে আসার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই প্যানেলে নিয়োগ হয়েছিল ২০১৯ সালে, ২০২৫ সালে এসে তাঁদের চাকরি চলে গেল সুপ্রিম রায়ে। সদ্য চাকরি হারিয়ে কার্যত দিশেহারা তাঁরা। এখন কি করবেন, কোথায় যাবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না অনেকে। এরই মধ্যে শাসকদল তৃণমূল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করতেও ছাড়ছেন না সদ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এসএসসিতে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায় ঘোষণার পরই আসরে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। তাঁরা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধনা করতে শুরু করে বৃহত্তর প্রচারে নামার পরিকল্পনা শুরু করেছে। এদিন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলের দলীয় নেতা-কর্মীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার জন্য আজ রাজ্যের এই অবস্থা। এর জন্য যদি কেউ দায়ি হন তিনি তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই রায় যথেষ্টই চাপে ফেলবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিশেষ করে যখন এক বছরের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এসএসসি-র রায় ঘোষণা হলেও এখনও সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্ণীতি এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ সংক্রান্ত মামলা। সেই মামলাগুলিরও রায়দান আসন্ন। ফলে চাপ আরও বাড়বে তৃণমূল কংগ্রেসের। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি ও বাম দলগুলি আন্দোলন আরও জোরদার করতে উদ্যোত হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার।
Discussion about this post