নবনির্মিত দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ নাকি পুরীর মন্দিরে নবকলেবরে ব্যবহৃত নিম কাঠের অংশ দিয়েই বানানো হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠতেই এই নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাখির চোখ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই দিঘাতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মন্দির উদ্বোধনের আগে থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ কোন কাঠে তৈরি হয়েছে, সেই নিয়ে নানা জল্পনা ওঠে রাজনীতির আঙিনায়। যা নিয়ে সরব হয়েছিল ওড়িশার বিজেপি সরকার। এর পাশাপাশি ধাম বিতর্ক তীব্র হয়। গোটা দেশের চারটি ধামের মধ্যে একটি অন্যতম হল পুরীর জগন্নাথ মন্দির ধাম। কেন দিঘাকে ধাম বলে আখ্যা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয় গোটা দেশে। শেষমেষ নিমকাঠ বিতর্ক ইতি টানা হলেও জিইয়ে রইলো ধাম বিতর্ক।
দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত রাজেশ দয়িতাপতিকে। তার নেতৃত্বেই দিঘার মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মার্বেল পাথরের মূর্তির পাশাপাশি কাঠের বিগ্রহেও প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়। তারপরই অভিযোগ, ২০১৫ সালে পুরীর মন্দিরে নবকলেবরে ব্যবহৃত নিম কাঠের অংশ দিয়েই নাকি বানানো হয়েছে দিঘার মন্দিরের জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ। সমস্ত মিডিয়ার সামনে এমনই দাবি করেছিলেন সেবায়িত রাজেশ দয়িতাপতি। তার এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়বিতর্ক । ওড়িশার বিজেপি সরকার পদক্ষেপ করে। বিষয়টির খতিয়ে দেখার জন্য ওড়িশার আইনমন্ত্রী হরিচন্দ্রন মন্দির প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পর উড়িষ্যার আইন মন্ত্রীকে রিপোর্ট পাঠায় মন্দির প্রশাসন। তারপরে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যে অভিযোগ উঠেছিল সেটি ভুয়ো। অর্থাৎ পুরীর মন্দিরে নবকলেবরে ব্যবহৃত নিম কাঠের অংশ যায়নি দিঘাতে।
কিন্তু বিতর্ক রয়ে গিয়েছে ধাম প্রসঙ্গে। ইতিমধ্যেই দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর তার সামনে দীঘা জগন্নাথ ধাম বলে লিখে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ধর্ম বিতর্ক উঠতেই সেই লেখাটি আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদিও অনেকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বলেন, অন্য একটি কাজের জন্য সেই লেখাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে আবারো যথাস্থানে রাখা হবে। অন্যদিকে এই বিষয়ে উড়িষ্যার আইনমন্ত্রী হরিচন্দ্রন জানান, নবনির্মিত দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে ধাম শব্দটি সরানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবেন। কারণ এতে ভক্তদের ভাবা বেগে আঘাত দেওয়া হচ্ছে।












Discussion about this post