দিদির প্রিয় ভাই কেষ্ট, অর্থাৎ বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে সদ্য জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে কোর কমিটি গড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তারপর সেই কোর কমিটির প্রথম বৈঠকের মধ্যেই প্রিয় ভাইকে ফোন করেন দিদি। বীরভূমে তৃণমূলের অন্দরে ঠিক কি চলছে? কাজল-কেষ্টর বিবাদ কি মিটবে ভোটের আগে?
সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন জেলার সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু বীরভূমে নির্দিষ্ট কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে পুরোনো কোর কমিটির ওপরই ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। উল্লেখ্য, বীরভূমের জন্য তৃণমূল নেত্রী কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ভাই অনুব্রত মণ্ডলের জেলে থাকাকালীন। কিন্তু অনুব্রত ফিরে আসার পর প্রায় দু-মাস সেই কোর কমিটির বৈঠক বসেনি কোনও এক অজ্ঞাত কারণে। অবশেষে রবিবার সেই কোর কমিটির বৈঠক বসেছিল বীরভূমে। ঘটনাচক্রে সেই বৈঠক শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই অনুব্রতকে ফোন করেন মমতা। তাঁদের মধ্যে ঠিক কোন কোন বিষয়ে কথা হয়, সেটা অবশ্য কেউই খোলসা করেননি। তবে ফোনটা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই ছিল, সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন কোর কমিটির অধিকাংশ সদস্যই। একমাত্র ব্যতিক্রম কাজল শেখ। এমনিতেই বীরভূমের ঘরোয়া রাজনীতিতে তিনি অনুব্রত-বিরোধী বলে পরিচিত। ফলে কোর কমিটি হোক বা বকলমে অনুব্রত মণ্ডলের হাতেই বীরভূমের দায়িত্ব থাক, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটার নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
বীরভূমে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে নাজেহাল নেত্রী জেলা সভাপতির পদটাই তুলে দিয়েছেন। কোর কমিটির হাতেই ছেড়েছেন বীরভূমকে। সেই কমিটিতে যেমন অনুব্রত মণ্ডল রয়েছেন, তেমনই স্থান পেয়েছেন কাজল শেখ। কিন্তু বীরভূমে যে দিদিমনির বল ও ভরসা সেই কেষ্ট, সেটা বোঝা গেল রবিবার কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন। অত্যন্ত কৌশলে তৃণমূল নেত্রী সকলকে সেই বার্তাই দিয়ে দিলেন। বৈঠক চলাকালীনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ফোন করেন কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মণ্ডলকে। তাঁকেই যা নির্দেশ দেওয়ার দিয়ে দেন কোর কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সামনে। বীরভূমে যে এখনও কেষ্টর ওপরেই ভরসা রাখছেন দিদি, সেটা ঠারেঠরে বলেই ফেললেন জেলা চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে অনুব্রতর কি কথা হয়েছে সেটা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। অনুব্রত-শিবিরের দাবি, অনুব্রতকে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন দলনেত্রী। এ-ও বলেছেন, অনুব্রত চাইলে কোর কমিটির বৈঠক ডাকতেই পারেন। কিন্তু অনুব্রত নিজেই ‘দিদি’কে জানান, তিনি বৈঠক আর ডাকতে পারেন না। তাই দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে বৈঠক ডাকবেন আশিসই।
অপরদিকে, বীরভূমের অপর নেতা তথা কেষ্ট-বিরোধী কাজল শেখকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, কে কাকে ফোন করেছিল সেটা বলতে পারবো না।
কাজলের বক্তব্য এখানেই থামেনি। তিনি বৈঠক এবং বীরভূমের কর্মসূচি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম একাধিকবার নিলেন। বোঝাতে চাইলেন, তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেকই। তাঁর নির্দেশেই তিনি চলবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডলকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর জেলা সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনেননি। ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর প্রিয় কেষ্টর ওপর হয়তো আস্থা হারিয়েছেন দিদি। কিন্তু আদতে দেখা গেল, জেল থেকে বেরিয়ে ‘অপারেশন বোলপুর’ ছাড়েননি কেষ্ট। নিজের মতো করেই ব্লকে ব্লকে ঘুরছেন, কর্মসূচি করছেন। সম্প্রতিই বীরভূমের মারগ্রামে এক বিরাট কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কোর কমিটির বৈঠকে স্বয়ং দিদির থেকেই সেই কর্মসূচির সবুজ সংকেত পেয়ে গেলেন কেষ্ট। তাই পদ হারিয়েও আফসোস নেই তাঁর। বললেন, ‘পদ না পেয়ে অম্বল হবে, এরকম মানুষ আমি নই। আমায় তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভার সাংসদ করতে চেয়েছিল। চাইলে তো তখনই হয়ে যেতাম। কবেই বিধায়ক, সাংসদ হতে পারতাম। কিন্তু ওই পদের মোহ আমি করিনা।
এদিনের কোর কমিটির বৈঠকেই অনুব্রত মণ্ডল বুঝিয়ে দিলেন, বীরভূমে শেষ কথা তিনিই। তাঁর অবর্তমানে দীর্ঘদিন কেন জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানো হয়নি সেটাও বুঝিয়ে দিলেন। অন্যদিকে কাজল শেখ, তিনিও নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে ব্যস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেকের নামেও জয়গান করে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন প্রবীণ ও নবীনের বিষয়টি। আর অনুব্রত, তাঁদের স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিলেন, জেল যখন খেটেছি, তখন কোনও দিনই অন্য দলে যাব না। কারণ, অন্য দলে গেলে তো জেলও খাটতে হত না।
গত ১৭ নভেম্বর হাসিনার দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সাজা ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য বেশ জোরালো...
Read more












Discussion about this post