পুরোনো ফর্মে অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই তৃণমূল নেতা এবার বোলপুর থানার আইসি-কে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে একটি অডিও ক্লিপ। তাতেই অনুব্রত মণ্ডলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা গিয়েছে। এমনকি বোলপুর থানার আইসি-র স্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ দিদির প্রিয় কেষ্টর বিরুদ্ধে। অনুব্রত মণ্ডলের পায়ের তলার মাটি কি আলগা হচ্ছে?
গত বছর ঠিক পুজোর আগে দু-বছরের বেশি সময় জেল খেটে বের হয়েছিলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, তিনি জেলে থাকাকালীনও বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে হটাননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অবশ্য একটি কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। জেলমুক্তির পরও তাঁকে পুরোদমে দলের কাজে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে এবং কোর কমিটিকে সাইডে রেখেই নিজের মতো করে কর্মসূচি ঘোষণা করছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সেই অনুব্রতই আবার একাধিকবার বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে নিয়ে নাজেহাল। এক সময় যার কথাতে বীরভূমে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, বর্তমানে তৃণমূল নেত্রীর অতি প্রিয় ভাই কেষ্ট ওরফে অনুব্রতর দাবি মেনে বোলপুর থানার আইসি পরিবর্তন করেনি রাজ্য পুলিশ। জানা যায়, প্রায় মাস দুয়েক ধরে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে বলে আসছেন লিটন হালদারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তা হয়নি আজও। উল্টে তাঁর একটি অডিও ক্লিপ সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেল। সেই অডিও ক্লিপে এক জনকে ‘অনুব্রত মণ্ডল’ নাম নিয়ে বোলপুরের আইসিকে হুমকি দিতে শোনা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করলেন অনুব্রত মণ্ডল নামক ওই ব্যক্তি।
গলা শুনে যদিও মনে হয় তিনিই দিদির আদরের কেষ্ট, তবে নিউজ বর্তমান এই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হতে শুরু করেছে এই অডিও ক্লিপ নিয়ে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তিনি একজন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে ঠিক কি ভাষায় কথা বলছেন”! প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কেষ্ট মণ্ডল। বোলপুর শহরে আইসি-র নেতৃত্বে তোলাবাজি চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘যাকে-তাকে মেসেজ করে টাকা চাইছে। কেউ এফআইআর করতে গেলেও টাকা চাইছে। বোলপুরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ এমনকি রাজীব কুমারের কাছে তাঁর নামে নালিশ করে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সরানো হয়নি।
এবার যে অডিও ক্লিপ ভাইরাল হল সেটাও বেশ অশ্রাব্য। সেই অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, ডেপুটেশন দিতে গিয়ে থানা থেকে বার করে আইসিকে পেটানো হবে। শুধু তাই নয়, বোলপুর থানার আইসির মা-স্ত্রীর উদ্দেশেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শোনা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে বেশ বেকায়দায় অনুব্রত মণ্ডল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেছেন, অডিও ক্লিপের কন্ঠস্বর তাঁর নয়। তবে কে বা কারা এই কাণ্ড করেছে সেটা বলতে পারেননি তিনি। কিন্তু এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এক বিবৃতি দিয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, দল স্পষ্টতই একজন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের করা মন্তব্যকে সমর্থন করে না এবং তা থেকে বিরত থাকে। আমরা তার অবমাননাকর এবং অগ্রহণযোগ্য অশালীন ভাষার ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, তাঁকে অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলকে আগামী চার ঘন্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিচ্ছে, অন্যথায় কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরানো হবে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, ক্রমশ পায়ের তলার মাটি আলগা হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলের। ২ বছরের বেশি সময় তিনি জেলে ছিলেন। ফলে এলাকায় তাঁর রাশ ক্রমশ অন্যের হাতে চলে গিয়েছে। কাজল শেখের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। তবে ওই অডিও ক্লিপ সত্যি নাকি সাজানো সেটা নিয়ে তর্ক হতেই পারে। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ এর আগে কোনও দিন বিরোধীরাও আনতে পারেনি। এবার যা হল, সেটা অনুব্রতর কাছে স্পষ্টতই দেওয়াল লিখন।












Discussion about this post