২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই শাসক দলের অন্দরে নয়া আতঙ্ক। নিজের বিশ্বস্ত পরিধিকেই কি আর বিশ্বাস করতে পারছেন না মাননীয়া! এই জল্পনাই এখন সামনে আসছে কারণ প্রকাশ্যে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর খবর। রাজ্য পুলিশে ও সচিব স্তরে রদ বদল নবান্নের, দায়িত্ব কমছে রাজীব কুমারের। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের চর্চা তুঙ্গে।
রাজ্য পুলিশ ও সচিব স্তরে রদবদলের খবর প্রকাশ করে নবান্নে তরফে জানানো হয়েছে এটি একটি রুটিন বদলি। অর্থাৎ শুধু রাজীব কুমারই নয় অনেক পুলিশ অফিসারকেই বদলি করা হচ্ছে আমলা স্তরে ও অনেক বদল আনা হয়েছে। কিন্তু বারবার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে রাজীব কুমার কে নিয়ে, যে প্রশ্নটা এই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
নবান্নের এ রদ বদলে যেমন কয়েকজন সচিবকে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত দায়িত্ব। আবার কয়েকজনকে তাদের পদ থেকে সরানোও হয়েছে। তেমনই তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে সরানো হল আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারকে। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যপালের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইএএস অফিসার অনুপকুমার আগরওয়ালকে। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পদে আগের মতোই থাকছেন রাজীব কুমার।অর্থাৎ তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের সচিব পদে ডিজি রাজীব কুমারের বদলে সেই দায়িত্ব সামলাবেন অনুপ আগরওয়াল।
উল্লেখ্য,২০১৯ সালে রাজ্যের এডিজি পদে থাকাকালীন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার কে তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের সচিব পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার ওই পদটি প্রশাসনের অন্দরে আইএএস ‘ক্যাডার পোস্ট’ হিসাবেই চিহ্নিত করা ছিল। তবে সেই সময় রাজীব কুমারের ওই পদে নিয়োগ স্বাভাবিক ধারার ব্যতিক্রম বলেই ধারণা করেছিলেন অনেকে। এমনকি সেই সিদ্ধান্তে রাজনীতির গন্ধও পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।
নবান্নের এই রদবদল অনুযায়ী,রাজীব কুমার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের এক অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার তাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে নিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেই দায়িত্বেই বহাল থাকছেন রাজীব কুমার এমনটাই জানানো হয়েছে।
যদিও নির্বাচনের আগে এই রদবদলকে অনেকেই একটি অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের দাবি, রাজীব কুমারের ওপর রাজ্য সরকার বা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর আস্থা এখনও অটুট থাকলেও, তাঁকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদেই মনোনিবেশ করতে দিতে চাইছে নবান্ন। যদিও সবটাই বিভিন্ন স্তরের দাবি সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত এই রদবদলের যথাযথ কারণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। রাজ্য পুলিশ ও সচিব স্তরের শীর্ষকর্তাদের রদবদল নিয়ে নানামহলে কৌতূহল তৈরি হলেও রাজ্য সরকারের সাফাই এই বদলিতে অভ্যন্তরীণ কোন কারণ নেই এটি একটি রুটিন রদবদল, ।












Discussion about this post