ধর্মের রাজনীতিতেই কখনও নরম কখনও গরম? এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করতে হচ্ছে সম্প্রতি খিদিরপুরে অরফানগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় ১৩০০ টি দোকান। আর ২০২৪ সালেও গার্ডেনরিচে ঘটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা, সেখানে একটি বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়েছিল। মূলত কলকাতা পুরসভার নাকের ডগাতেই গড়ে উঠেছিল এই বেআইনি। তবে ২০২৪ এর গার্ডেনরিচ ও ২০২৫ এ খিদিরপুর দুই জায়গার ঘটনা স্থল পরিদর্শনে যান মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই দুটি জায়গায় ঘটনাপ্রবাহ এক হলেও দুটি পৃথক মেজাজ দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর।
কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা সেই দুটি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ২০২৪ এর গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনা! একটি বহুতল, কলকাতা পৌরসভা পুলিশ প্রশাসনের নাকের টগাতে কোন অনুমতি ছাড়াই বেআইনি প্রক্রিয়ায় গড়ে উঠেছিল, এবং পরবর্তীতে সে বেআইনি বহু দলটি ভেঙে পড়ে। ঘড়ি ঘড়ি পরিস্থিতি পরিদর্শনে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছায় বেআইনি বহু তলে বসবাস করার বিষয়ে একটিও প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী কে বরং নরম সুরেই কথা বলেছিলেন মমতা। গত বছর গার্ডেররিচের দুর্ঘটনা পরিদর্শনে হচ্ছে কি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুনুন,, এই ঘটনার পর ২০২৫ খিদিরপুর অগ্নিসংযোগ, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আপনাদের দোষেই এই ঘটনা! খিদিরপুর অরফান গঞ্জ বাজারে উপস্থিত হয়ে কোন সুরে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী, শুনুন
সেদিন খিদিরপুর অরফানগঞ্জ বাজারে পৌঁছে উপস্থিত দোকানদারদের কিছু প্রশ্নে বিব্রত হয়েই চোটতে দেখা গেল মাননীয়াকে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ নিজেদের দাবি বা প্রশ্নের উত্তর চাওয়া যাবে না মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমনটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তার সহযোগিতা। কিন্তু গত বছর গার্ডেনরিচের বহু দল ভেঙে পড়ার ঘটনায় একেবারেই নরম সুরে বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এই মুখ্যমন্ত্রীকেই, বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা এই নির্মাণনিয়েও কোন প্রশ্ন তোলেননি তিনি। খিদিরপুরের এই অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুধু থাকলো রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বহুতল ভেঙে পড়ায় ওই বেআইনি বহু তলে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বসবাসের জন্য কোন পদক্ষেপ বা মন্তব্য করলেন না মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু এ খিদিরপুর অরফানগঞ্জ বাজারে এসে সরাসরি তিনি জানাচ্ছেন দোকানদারদের গাফিলতিতেই এই অগ্নিসংযোগ এর কারণ কি শুধুই ধর্ম! কারণ এই অগ্নিসংযোগে পুড়ে গিয়েছে প্রায় ১৩০০ টি দোকান, যার মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের, এই কারণেই কি পক্ষপাতিত্ব? উঠে আসছে একাধিক অভিযোগ।












Discussion about this post