রাজ্যে একের পর এক বাজারে আগুন লাগছে। অথচ প্রশাসন নির্বিকার হয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই অনুদান ও ক্ষতিপূরণের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেমন খিদিরপুরে গিয়ে দিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যেই তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। এবার সেই খিদিরপুরে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তুলনা করলেন মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। খিদিরপুরের অরফ্যাঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ড ম্যান মেড বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকালে সেই পুড়ে যাওয়া বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বিজেপি নেতা অর্জুন সিংকে পাশে নিয়ে এক ছোট্ট জনসভা করেন শুভেন্দু। তাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তুমুল আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বললেন, আপনার থেকে বাংলাদেশে ইউনূসের শাসন অনেক ভালো।
খিদিরপুর বাজারের অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। সোমবার দুপুরে পুড়ে যাওয়া বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি যথারীতি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া দোকানের জন্য এক লক্ষ টাকা এবং আংশিক পুড়ে যাওয়া দোকানদারদের জন্য ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, এই বাজার সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। উল্লেথ্য মুখ্যমন্ত্রী যখন এই ঘোষণা করছেন, তখনই ব্যাবসায়ীদের থেকে কেউ প্রশ্ন করেন, কতদিন লাগবে, ছয়মাস? যা শুনে দৃশ্যতই চটে যান মুখ্যমন্ত্রী, বলেন, কে ভাই আপনি? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে যাওয়ার সেই ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। মঙ্গলবার সেই খিদিরপুরে গিয়েই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি, গরিব ব্যবসায়ীদের তো নয়ই। এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু, তিনি অভিযোগ করেন, গোটা এলাকা বেচে দিয়েছে তৃণমূল। রাত একটায় আগুন লাগলো, আর দমকল এল ভোর চারটেয়। তৃণমূল মানেই টাকা মারার কোম্পানি। মুখ্যমন্ত্রীর ওপর থেকেই মানুষের আস্থা উঠে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি মিথ্যেবাদী বলে আক্রমণ করে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, এটা সরকার চলছে? এর থেকে তো ভালোভাবে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার চলছে বাংলাদেশে!
কলকাতা শহরের একাধিক বাজারই কার্যত জতুগৃহ। প্লাস্টিক ও ত্রিপলে ঢেকে আছে রাস্তা। তারের জঙ্গল, বেআইনি গ্যাস সিলিন্ডারে ঠাসা। ফলে কোনও ভাবে আগুন লাগলেই তা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। খিদিরপুরের বাজারে প্রায় ১৩০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেল। তবুও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু অজুহাত দিচ্ছেন। দমকলকর্মীদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন শাসকদলের কথায় ওঠেবসে, তাই তাঁদের বেআইনি কাজ দেখার সময় নেই। ফলে মানুষের জীবন ও জীবীকা এখন ভগবানের হাতে। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে হাজারখানের পুলিশ নিয়ে খিদিরপুরে আসতে হয়েছে। তবুও এক ব্যবসায়ীর প্রশ্নের মুখে পড়ে ধমকাতে হল। এখানে বিজেপি আছে, সিপিএম ও তৃণমূলও আছে, হিন্দুও আছে মুসলিমও আছে। কই বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে তো কোনও বাঁধার মুখে পড়তে হয়নি!












Discussion about this post