দিন কয়েক আগেই নদিয়ার কালীগঞ্জে বোমার আঘাতে মৃত নাবালিকার মায়ের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ূন কবীর। তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন দলকে না জানিয়েই তিনি নিহত ওই কিশোরীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। তৃণমূল আরও দাবি করেছিল, দল এটাতে মান্যতা দিচ্ছে না, হুমায়ুন নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সেখানে গিয়েছিলেন। জানা যায়, তৃণমূল সেবার সতর্ক করেই বিধায়ককে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি যা ঘটালেন, সেটা নিয়ে গোটা রাজ্যই তোলপাড়। কসবা ল কলেজে ধর্ষণকাণ্ডের পর এমনিতেই চাপের মুখে শাসকদল। এবার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
সম্প্রতি সম্যমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই সিসিটিভি ফুটেজটি সল্টলেকের পশ্চিবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য় ও বিজ্ঞান বিভাগের। চলতি মাসের মাসের ৩-জুলাই সেখানে গিয়েছিলেন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুভেন্দুর দাবি, সহকারি রেজিস্ট্রার প্রলয় চক্রবর্তীর ঘরে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁকে অফিসের ভেতরেই লাথি মারছেন হুমায়ুন। হিংসা থেকে বাঁচতে প্রলয় চক্রবর্তী তার কর্মক্ষেত্র ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। লজ্জাজনক ঘটনা ধরা পড়লেও, স্বাস্থ্য বিভাগ নীরব ও বধির। তৃণমূলের বিধায়ক হলে সরকারি কর্মচারীদের উপর হিংসা চালানোর জন্য অবাধ অনুমতি? পরে বিজেপি নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এত সাহস কিভাবে পান তৃণমূল বিধায়করা এর জবাব মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবকে দিতে হবে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, একদম মিথ্যে খবর। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে।… আমি যথাসময়ে যথা জায়গায় ব্যবস্থা নেব।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য বহুদিন ধরে দাবি করছেন শাসকদলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হচ্ছে। সেই কারণে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। তাঁরা অবশ্য তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও কাঠগড়ায় তুলছেন। কারণ, একের পর এক মারাত্মক অপরাধ করার পরও না পুলিশ না প্রশাসন, কেউই তৃণমূলের কাউতে ছুঁয়ে দেখে না। তদন্ত করা তো দূর অস্ত। এই প্রসঙ্গে অনেকেই বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। অনুব্রত সরাসরি পুলিশ আধিকারিক ও তাঁর মা-স্ত্রীকে গালিগালাজ করে হুমকি দিলেও পুলিশ এখনও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাই হুমায়ুন কবীররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্টারকে লাথি মেরেও পার পেয়ে যাবেন।












Discussion about this post