১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চালু হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম ঝুলন্ত সেতু হাওড়া ব্রিজ। ১৯৬৫ সালের ১৪ জুন এই সেতুর নামকরণ হয় প্রথম ভারতীয় এবং এশীয় নোবেলজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে। শহর কলকাতা থেকে গঙ্গার ওপারে থাকা বড় রেল টার্মিনাল হাওড়া স্টেশনে সহজে পৌঁছনোর জন্য ব্রিটিশ শাসকরা তৈরি করেছিল হাওড়া ব্রিজের। যা আজও লক্ষ লক্ষ যানবাহন এবং মানুষের পারাপারের অন্যতম উপায়। হাওড়া ব্রিজ আজও বিশ্বের বিশ্ময়। ঐতিহাসিক এই ব্রিজ এবার নবরূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের হাত ধরে। কানাডার জ্যাকেস কার্টিয়ার ব্রিজ বা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মতোই আধুনিক আলোকসজ্জায় ঝলমল করবে হাওড়া ব্রিজ।
অর্থাৎ, লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে হাওড়া ব্রিজের চমক আরও কয়েকগুণ বাড়তে চলেছে। আর সবচেয়ে উল্লেথযোগ্য বিষয় হল, আলোর এই খেলা এবার প্রতিদিনই পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ, রোজই হাওড়া ব্রিজের ঔজ্জ্বল্য পরিবর্তন হবে, আরও মোহময় দেখতে লাগবে। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট জানিয়েছে, এই প্রকল্পের নাম ‘ডায়নামিক আর্কিটেকচারাল ইলুমিনেশন অফ রবীন্দ্র সেতু’। এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে পাঁচ ধরনের উন্নতমানের আলো। এই আলোগুলি সেতুর মূল কাঠামো বরাবর এমনভাবে বসানো হবে, যে রাতের বেলা মহোময় হয়ে উঠবে আমাদের প্রিয় হাওড়া ব্রিজ। পাশাপাশি রকমারি আলোর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দেবে সাউন্ড শো। অর্থাৎ একসঙ্গে চলবে লাইট অ্যান্ড মিউজিক সিঙ্ক্রোনাইজেশন। অনেকটা আলোর ঝর্ণাধারার মতো। আর প্রতিদিন পরিবর্তন হবে আলোর রঙ ও ছন্দ। কলকাতা বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান সম্রাট রাহি জানিয়েছেন, “এই আলোকসজ্জা শুধুই দর্শনীয় নয়, এটি এক বিশাল পর্যটন ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাও।
কলকাতাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার অন্যতম হাতিয়ার হবে নবরূপের হাওড়া ব্রিজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হবে বছরের বিশেষ ৫০টি দিনে। যেমন, স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, মহালয়া, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ইদ, বড়দিন ইত্যাদি। ওই বিশেষ দিনগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন থিমে সাজানো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। আর এই শোগুলি হবে ৫-১০ মিনিটের। সবাই এই শো দেখতে পারবেন। মূলত বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে থিমগুলি তৈরি করা হবে। তবে শুধু সামনে বসেই হাওড়া ব্রিজের এই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখা যাবে তা নয়। এর জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ অ্যাপ। যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে দর্শকরা লাইভ স্ট্রিমে উপভোগ করতে পারবেন এই সৌন্দর্য। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাওড়া ব্রিজে দ্বিতীয় পর্যায়ের এলইডি আলো উদ্বোধন করেছিলেন। এবার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালু হয়ে যাবে আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই।












Discussion about this post