অনুব্রত মণ্ডলের খাস তালুক বীরভূমে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। সমবায় নির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারল না শাসক দল। নিরঙ্কুশ জয় পেল বিজেপি। ময়ূরেশ্বর দু’নম্বর ইটাহাট কৃষি উন্নয়ন সমবায় কমিটিতে নির্বাচন হয়। দেখা যায়, নটি আসনেই জয়ী পদ্ম শিবির। ফলাফল ঘোষণা হতেই উন্মাদনা দেখা যায় বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে। এদিকে ফলাফল ঘোষণা হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। কারণ দলের গোল্লা পাওয়া নিয়ে নাম না করে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু।
জেতার পর বিজেপি নেতৃত্ব বলেন, বহুদিন ধরে সমবায় নির্বাচন হয়নি। এখন হয়েছে, আমরা জিতেছি। এমনকি বিজেপির তরফে বলা হয় , আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যদি অবাধ এবং সুষ্ঠুভাবে হয়ে থাকে, তাতে বিজেপিই জিতবে। তৃণমূল কংগ্রেস একটা আসনও পায়নি। সেই জায়গা থেকেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল ফের। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাপতি কাজল শেখ নিশানা করলেন অনুব্রত মণ্ডলের দিকে। তিনি জানিয়ে দেন, স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে খামতি না থাকলে বিজেপি কখনোই জয়ী হতে পারত না। তিনি বলেন, বীরভূমের দায়িত্ব কোর কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোর কমিটিতে সমস্ত দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার দায়িত্ব মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার। কেন দল হেরে গেল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন করতে বলেন মন্ত্রীকে। অনেকে বলছেন, তিনি যে অনুব্রত মণ্ডলের দিকেই নিশানা করছেন, সেটা স্পষ্ট। তার কারণ, এর আগে বহুবার অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কাজল শেখের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি তাদের দ্বন্দ্ব মেটাতে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ পর্যন্ত করতে হয়েছিল। এটা আবার বীরভূম থেকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে। এদিকে
বিজেপি নেতৃত্ব বলেন, বিজেপির জয়ের সাফল্য এ সমবায় নির্বাচন দিয়েই শুরু হল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যদি সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচন হয় তবে বিজেপিই জিতবে বলে দাবি তার।
জানা যায়, ওই এলাকাটি কাজল শেখের গড়। তারপরও কেন হেরে গেল তৃণমূল নেতৃত্ব, সেটা ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন মেরে কেটে আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই অনুব্রত মণ্ডলের খাস তালুক, কাজল শেখের গড়ে তৃণমূলের এমন হাল, মুখে না বললেও চিন্তায় পড়েছে দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূলের ধরাশায়ীর কারণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হতে পারে। যে কারণে জনগণ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভোট ভাগ করে দিচ্ছে। যদিও নিচুস্তরের নির্বাচনের ফলাফল খুব একটা প্রভাব পড়ে না বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে। তবে দলের নিচু স্তরের কর্মীরা মনোবল হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।












Discussion about this post