গত বছররে ৫ আগস্টে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। সে দিনের কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে? তিনি বলেছিলেন, এখন থেকে বাংলাদেশের জনগণের ভালোমন্দের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে থাকবে। কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন হল, আর এই সরকার গঠনের ব্যাপারে বড় দায়িত্ব পালন করলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা এবং জামায়তে ইসলমী বাংলাদেশ। বিদেশ থেকেও অনেকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনে সহায়তা করেছিলেন। এরপর বাংলাদেশের বুকে বয়ে গিয়েছে বহু ঝড়-জল। আজ এক বছর হতে চলল, বাংলাদেশ এখনও সেই অবস্থানেই আছে যা ছিল এক বছর আগে। ফলে সেদিন বাংলাদেশের জনগণের ভালোমন্দের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে নেওয়া বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বর্তমান অবস্থান কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাওয়া কার্যত বোকামি। কারণ, জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কাজকর্ম সবচেয়ে সন্দেহজনক। যা এখন বাংলাদেশের মানুষই বিশ্বাস করেন না।
সম্প্রতি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে গোটা বিশ্ব। গোপালগঞ্জে এনসিপি বা পূর্বতন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক দলের একটি কর্মসূচি উপলক্ষ্যে ব্যাপক গোলমাল হল। কেন হল, কে বা কারা দায়ি, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থতদের উপর গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করার ঘটনা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কারণ, এই কাজটা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাঁরাই হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম-সহ একাধিক এনসিপি নেতাকে তাঁদের সাজোয়া গাড়ি বা আর্মাড ভেহিকেলে লুকিয়ে গোপালগঞ্জের বাইরে বের করে আনেন। অথচ এই এনসিপি নেতারাই বিগত এক বছরে বারবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ভারতের দালাল বলে উৎখাতের ডাক দিয়েছিল। আজ তিনিই বিপদের দিনে তাঁদের রক্ষাকর্তা হয়ে অবতীর্ণ হলেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে নিয়ে বড় দাবি করেছিলেন এনসিপি নেতারা। মূলত হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কোনও ভাবেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি নাকি বুকে পাথর চাপা দিয়ে শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এনসিপি নেতারা বহুবার সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে সরানোর দাবি তুলেছেন প্রকাশ্যে, তাঁকে ভারতের দালাল, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা র-এর এজেন্ট বলেও দেগে গিয়েছেন বহুবার। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল গোপালগঞ্জ হোক বা কক্সবাজার, এনসিপি নেতারা আক্রান্ত হতেই তাঁদের উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এল সেনাবাহিনী। এনসিপি নেতাদের বাঁচাতে গুলি চালালো তাঁরা, এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ধমকি-হুমকি দিতেও পিছপা হল না বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অর্থাৎ, ছাত্র বা সন্তানসম এনসিপি নেতাদের বাঁচাতে প্রকৃত বাপের মতোই কাজ করলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ, যাদের গত বছরের জুলাই-আগস্টে মেরেধরে খুন করে গাছ বা ওভারব্রিজে ঝুলিয়ে দিয়েছিল এই ছাত্র নেতাদের লোকজন। তাঁরা কিন্তু গোপালগঞ্জে হাত গুটিয়ে বসে থাকলো। অন্যদিকে গোপালগঞ্জ বা কক্সবাজারে উত্তপ্ত জনতার হাত থেকে সন্তানের মতোই আগলে রেখে কেন এনসিপি নেতাদের প্রাণ বাঁচালেন ওয়াকার উজ জামানের সেনারা। এটারই ব্যাখ্যা খুঁজছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল।











Discussion about this post