সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে লোকসভায় দলনেতা করা হয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এটা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ ঘিরে হইচই কাণ্ড। লোকসভাতে তৃণমূলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। এবার দিদি সামলান। মাত্র এই তিনটি শব্দ দিয়েই নিজের রাজনৈতিক ক্ষোভ উগড়ে দিলেন এদিন।
যে মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে লোকসভায় রদবদল করা হল, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ কাকতালীয় ঘটনা নয় বলেই মত ওয়াকিবহুল মহলের। সূত্রের খবর, নিজের ইচ্ছাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দিতেই নাকি তার এই সিদ্ধান্ত। তবে তার একাধিক বিষফোড়ক অভিযোগ আরো পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দিদি নাকি বলেছে আমি লোকসভায় ঠিকমতো কাজ করি না। সেখানে তিনি বলেন, যারা লোকসভায় সাজুগুজু করে আসেন বা বেশিরভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন, তাদের নিয়ে তো কোনও কথা হয় না। তিনি আরও বিস্ফোরক কয়েকটি কথা বলেন। তার চেয়ারটা নাকি পিছনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিজে বলেছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি একাধিক মামলা সামলাচ্ছেন। ওবিসি সংরক্ষণ, এসএসসি দুর্নীতি মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবু তাকে দিদির কাছে অপমানিত হতে হচ্ছে। তাই আর না, এবার দিদি সামলান। এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি নাকি দিদির সঙ্গে আলোচনা না করেই ডিসিশন নিই। এই অভিযোগ মানতে পারি না। প্রয়োজন পড়লে রাজনীতি ছেড়ে দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমান মূলক এই মন্তব্যই তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে বলে দাবি তার। তিনি আরও বলেন, মহুয়া মৈত্ররা আমাকে গালাগালি করে। সেগুলো মানবো কেন? অভিষেকের সঙ্গে কোনও সমস্যা নেই। তবে দিদির অভিযোগে তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান।
তবে এই ঘটনা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ প্রকাশ করে খানিকটা দলের অসস্তি বাড়ালেন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
অন্যদিকে এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাঁধে গুরু দায়িত্ব। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার মুখ। এখন দেখার, কিভাবে লোকসভার সাংসদদের তিনি ঐক্যবদ্ধ রাখবেন এবং সুকৌশলে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্যু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো কিছু প্রকাশ্যে বলেনি। তবে দল থেকে কিছু চাপ ছিল এবং প্রবীণ নেতাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি রয়েছে, এটা স্পষ্ট হল এই ঘটনায়।
এদিকে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই সাংসদদের অভ্যন্তরে এমন মত বিরোধ। তবে লোকসভার মুখ হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে সামাল দেন, সেটাই দেখার।












Discussion about this post