মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, তাই তড়িঘড়ি বেহাল রাস্তার মেরামতি শুরু হয়েছে ঝাড়গ্রামে। না, ঝাড়গ্রামের সমস্ত রাস্তায় নয়। শুধুমাত্র যে যে রাস্তা দিয়ে মাননীয়া যাতায়াত করবেন, ঠিক সেটুকুই সরানো হচ্ছে। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরায় কোনও সমস্যা না হয়। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এমনকি ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তৃণমূলের কাউন্সিলররাও।
ঝাড়গ্রাম সফরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করবেন প্রশাসনিক বৈঠক। কিন্তু ঝাড়গ্রামের রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল, খানাখন্দময়। ঝাড়গ্রামবাসীদের কাছে যা বিভীষকা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে কথা, তাঁকে তো আর ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে আনা যাবে না? অগত্যা তড়িঘড়ি মেরামত করা হচ্ছে ঝাড়গ্রামের রাস্তা। না সব রাস্তা নয়, বরং যে রাস্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যাতায়াত করবেন, সেটুকুই শুধু মেরামত করা হচ্ছে। গর্ত বুঝিয়ে নতুন পিচের প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে।
যাতে মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরায় কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেই খেয়াল রাখছে ঝাড়গ্রাম পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেহাল রাস্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তোপের মুখে যাতে পুরসভা বা জেলা প্রশাসনকে পড়তে না হয়, তাই তড়িঘড়ি রাস্তা সরানো হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রাম পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররাই। দীর্ঘদিন ধরেই দাবি রাস্তা সারানোর, কিন্তু কর্ণপাত করছেন না চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন দলীয় কাউন্সিলর।
ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে কমবেশি সব রাস্তার অবস্থাই অত্যন্ত বেহাল। বিশেষ করে অলিগলি গুলো। পূর্ত দফতরের অধীনে মেন রোড যদিও বা মাঝেমধ্যে মেরামত করা হয়, ওয়ার্ডের ভিতর ও ভিতরের দিকের রাস্তাগুলি দীর্ঘকাল মেরামতি হয়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে সামান্য কিছু রাস্তা জোরকদমে মেরামতি চলছে। বাকি রাস্তা কেন মেরামত হবে না? তাঁদের বক্তব্য বেশ কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুরসভাকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তা সরানো হয়নি। তাই প্রাণ হাতে করেই যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
মজার বিষয় হল, শুধু ঝাড়গ্রামবাসী নয়, এখানকার বেহাল রাস্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট তৃণমূলের কাউন্সিলররাও। তাঁদের প্রতিনিয়ত জবাবদিহি করতে হচ্ছে রাস্তার দশা নিয়ে। ঝাড়গ্রাম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গৌরাঙ্গ প্রধান। তিনি তৃণমূলের টিকিটে জেতা দীর্ঘ সময়ের কাউন্সিলর। ঝাড়গ্রামের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার জন্য ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনিও। তাঁর বক্তব্য চেয়ারম্যানকে আমরা বারেবারে বলা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেন না। অথচ যেই মুখ্যমন্ত্রী আসছেন ওমনি রাস্তা সরানো হচ্ছে। তাঁর দাবি সুযোগ পেলেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাস্তা নিয়ে দরবার করবেন।
ঝাড়গ্রাম শহরে রাস্তাঘাটের অবস্থা যে অত্যন্ত সঙ্গিন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ। তবে কেন সরানো হয়নি? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি অদ্ভুত যুক্তি দিলেন। তাঁর দাবি, এবার বর্ষা বেশি হওয়ায় রাস্তা মেরামত করা যায়নি!
কয়েক মাস পরেই বিধানসভা ভোট, তার আগে ঝাড়গ্রামের একাধিক সমস্যা নিয়ে চিন্তিত শাসকদল। ঝাড়গ্রাম জেলায় যেমন হাতির উৎপাতের সমস্যা রয়েছে, তেমনই রাস্তাঘাট নিয়ে বিশ্বর অভিযোগ। কোন কোন এলাকায় রাস্তাঘাট এতটাই খারাপ যে সেখানে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা রোগী বা বয়স্কদের যাতায়াত কার্যত বন্ধ। ঠিক এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন ঝারগ্রামে। তার জন্য নির্দিষ্ট রূটে রাস্তা মেরামতির কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আসবেন এবং ফিরেও যাবেন। কিন্তু ঝাড় গ্রামের প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে তিনি কি জানতে পারবেন? খানাকন্দময় রাস্তার দীর্ঘ যন্ত্রণা ভোগ করা ঝাড়গ্রামবাসী ক্ষোভে ফুসছেন। তার ওপর তৃণমূল কাউন্সিলর বিক্ষুব্ধ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি কি বেগতিক? এই প্রশ্ন থেকেই যায়।মঙ্গলবার ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মুখ্যমন্ত্রী ঘাটাল আসার আগে আজ ঘাটালের রাস্তা সাফাই-য়ে তৎপরতা । জোর কদমে চলছে ঘাটাল আরামবাগ রাজ্য সড়ক এবং ঘাটাল চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়ক সাফাই ও মেরামতের কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর বন্যা পরিদর্শন এর আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হল ঘাটাল আড়গোড়া চাতাল ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ঘাটাল আড়গোড়া চাতালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন তিনি। তার আগে ঘাটালের আড়গোড় চাতালে গার্ড রেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।সকাল থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পুলিশ।












Discussion about this post