গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের কারণে দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর আগে ও পরে সেই দলের শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতা বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। শেখ হাসিনা ভারত সরকারের বিশেষ অতিথি হয়ে দিল্লির কোনও এক গোপন আস্তানায় রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের বাকি নেতারা কোথায় রয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। বিগত এক বছরে আওয়ামী লীগের নেতারা কার্যত লুকিয়ে ছিলেন। তবে গত এক দেড় মাস ধরে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটা নড়াচড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা কয়েকমাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও বার্তা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্বুধ করে যাচ্ছিলেন।
এবার তিনি ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন বলে সুত্রের খবর। এবার বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আওয়ামী লীগকে পুনরায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফেরানোর জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ব্যাংকের তহবিল লুট ও জনগণের টাকা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। এও দাবি করা হচ্ছে, হাসিনার অনুরোধে এস আলম ২৫০০ কোটি টাকা খরচ করতে সম্মত হয়েছেন, যা দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনা যায়।
এই প্রতিবেদনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙ্গিনায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। যাকে বলে রীতিমতো ভূকম্পন। অভিযোগ, দিল্লিতে বসেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভয়ানক ষড়যন্ত্র করছে। ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীর কর্ণধার এস আলমের কাছে থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তিনি বর্তমান ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের এবং আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করার জন্যই এস আলমের থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন হাসিনা। আর ওই ব্যবসায়ীও তাঁকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যে। বাকিটা খুব শীঘ্রই দিয়ে দেবেন বলে দাবি প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে এও দাবি করা হয়েছে, দিল্লিতে গত ৮ আগস্ট শেখ হাসিনার গোপন ঠিকানায় যান এস আলম। সেখানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষনেতা যেমন ছিলেন, তেমনই নাকি উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের কয়েকজন প্রতিনিধি। এটা মারাত্মক অভিযোগ। যদিও এখনও বাংলাদেশ সরকারের তরফে এই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগের জন্য ভারত যে ক্ষুব্ধ তা আর বলে দিতে হবে না। এই পরিস্থিতিতে ভারত কোনও মন্তব্য করে কিনা সেটাই এখন দেখার।
অপরদিকে, এস আলম ও হাসিনার বৈঠক প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে কিছু বলা না হলেও জানা যাচ্ছে, এস আলম-সহ তাঁর আত্মীয় ও সংস্থার বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়েরের তথ্য দিয়েছেন সংস্থার উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ। ইসলামী ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেই মামলা দুটি দায়ের হয়েছে। অর্থাৎ, সরাসরি ইউনূসের প্রশাসন কিছু না বললেও দুদকের দায়ের করা এই মামলা অনেক কথাই বলে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, এস আলম এখন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। বিএনপি-সহ এনসিপি নেতাদের দাবি, এই ব্যবসায়ী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং তাঁর দুর্নীতির অংশীদার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এক বছর পর কেন এই মামলা?












Discussion about this post