বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরতে পরতে ক্লাইম্যাক্স আর অ্যান্টিক্লাইম্যাক্স। সেই ঘটনা প্রবাহে নতুন সংযোজন সেনাবাহিনী প্রাক্তন এবং কর্মরত মিলিয়ে ২৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার এবং তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর সৌদি আরব সফর বাতিল করেছেন। দিল্লি আসার কথা ছিল। সেটাও তিনি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, চলতি মাসের ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলের ঢাকা যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ সেনাসূত্রে খবর, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তাঁদের সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ শাসনের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। কে কী চাইছেন একবার দেখে নেওয়া যাক। মানে কার মনে, কী ইচ্ছা আছে।
সেনাসূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জেনারেল ওয়াকার সম্প্রতি তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসকে কাটা কাটা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর (ইউনূস) কাছে রিপোর্টিং করতে বাধ্য নন। তিনি রিপোর্ট করবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে। অন্যদিকে, তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস চাইছেন রাষ্ট্রপতিকে যে কোনও উপায়ে বরখাস্ত করতে। বসাতে চাইছেন ‘ইয়েস ম্যানকে’। অপর দিকে প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না।
গোল বেঁধেছে অন্য জায়গায়। ইউনূস চাইলেও কোনও অবস্থাতেই রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে বরখাস্ত করতে পারবেন না। যদিও সংবিধান তাঁকে সেই ক্ষমতা দেয়নি। কিন্তু দেশটার নাম বাংলাদেশ। আর তদারকি সরকার প্রধানের দায়িত্বে আছেন মহম্মদ ইউনূস। যিনি আইন মানেন না, সংবিধান মানেন না। কিন্তু তিনি কিছু করতে পারছেন না। কারণ, ভারত। যদিও সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে সে দেশের অভ্যন্তরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। ভারতের বিদেশনীতি কখনও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। ভারত চায় সুষ্ঠু নির্বাচন। আর ইউনূস চাইছেন ওয়াকার উজ জামান সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিজের গদি ধরে রাখতে। প্রশ্ন উঠছে, অতঃকিম।
উত্তরপাড়া সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার গোপনে ভারতীয় সেনার পদস্থকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি চাইছেন যেভাবে হোক হাসিনা দেশে ফিরুক। ঢাকায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার নীল নকশা তৈরি করে রেখেছে। চাইছে, দেশ শাসনের রিমোট হাতে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত করতে। এটা ইউনূস আগাম বুঝে গিয়েছেন। আর তাই, তিনি ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছেন। ইউনূস নিশ্চিত, যে হাসিনা দেশে ফেরা মানে তাঁর কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা। ইউনূসের ভয় শুধু হাসিনাকে নিয়ে নয়, ভয় ভারতকে নিয়েও। তদারকি সরকার প্রধান একটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন যে সাউথব্লক যেভাবেই হোক বঙ্গবন্ধু কন্যাকে দেশে ফেরাবেই। প্রশ্ন উঠছে, সে কারণেই কি বাংলাদেশ সেনাপ্রধান গোপনে ভারতীয় সেনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন? শত হলেও তাকে তো বাঁচতে হবে। হাসিনাকে দেশে নিরাপদে ফেরাতে পারলে তিনি বেঁচে যাবেন।
গদি ধরে রাখার জন্য ইউনূস কম চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশের নানা প্রান্তের বেশ কয়েকটি ঘটনায় তিনি ভারতকে দায়ী করেন। চেষ্টা ছিল যেভাবে হোক নজর ঘুরিয়ে দেওয়া। কিন্তু সাউথব্লকের কড়া জবাবে সেই সব চাল ভেস্তে গিয়েছে। তাই, এবার তাঁর নজর পড়েছে সেনাপ্রধান ইউনূসের ওপর।












Discussion about this post