মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পাহাড়ে হিম শীতল দু ঘন্টার বৈঠকের পর স্নেহের শোভনকে গুরুদায়িত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরের ২২ শে সেপ্টেম্বর শোভন বৈঠক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে। সেই বৈঠকের এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠক সারেন কানন ওরফে শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভনের তৃণমূলে আসার জল্পনা বহুদিনের। দীর্ঘ সাত বছর পর আবার প্রশাসনে ফিরলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পরেই ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তাকে নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা NKDA -র চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হল। এতদিন এই পদের দায়িত্বে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভনের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এবার তৃণমূলে তার সক্রিয় ভূমিকায় ফেরা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার সম্ভবনার আবহে বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে শোভনের সমর্থনে পড়েছে হোডিং। বেহালা ফোরাম, বেহালা নাগরিক মঞ্চ এবং জয়তু বেহালা নামে হোডিং লাগানো হয়েছে। তাতে লেখা – ধন্যবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এনকেডিএ – র চেয়ারম্যান হলেন শোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বেহালার হোডিং এ তৃণমূলের কোনও নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
কালীপুজোর দিন ১৩২ নং ওয়ার্ডের বড়বাগানের সামনে ডায়মন্ড হারবার রোডের ওপরে লাগানো হয়েছে হোডিং। যা ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। শিক্ষকনিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে জেল বন্দি বেহালা পশ্চিমের ২৫ বছরের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থর গ্রেফতারির পরেই তাকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাই জেল মুক্তি হওয়ার পরেও তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা কম। সেই সূত্রেই পার্থর বিকল্প শোভনের হওয়ার সম্ভবনা তৈরী হয়েছে। বেহালা তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, যে বা যারা হোডিং লাগিয়েছে তারা সিপিএমের হার্মাদ ছিল। তারা কোনোদিনও তৃণমূল করেনি। এরা জামানা বদলের সঙ্গে সঙ্গে আরএসপি, কংগ্রেস এবং বিজেপিতে ঘুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে ঢুকেছে। পার্থ জেলে যাওয়ার সাথে সাথে তারা নতুন নেতা খুঁজতে বেরিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মারফত শোভনের কাছের লোক হয়েছে। নিয়মিত গোল পার্কে যাতায়াত করছে। তৃণমূলে শোভনের যোগদান নিয়ে তারা নিজেদের প্রভাব জানাতে এইসব হোডিং দিয়ে বেড়াচ্ছে।
মুখমন্ত্রী প্রাক্তন মেয়র শোভনকে নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার পর এমন ধরণের হোডিং নিউটউন বা কলকাতার অন্য কোথাও নজরে আসেনি। যা নিয়ে গাঢ় হয়েছে জল্পনা। শোভন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বেহালা পশ্চিম থেকে। রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বেহালা কলেজ ছাত্র পরিষদ থেকে। শোভন ২১ বছর বয়সে বেহালা পশ্চিমের ১৩২ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর হন। পরবর্তীতে একই আসনে টানা ২৫ বছর জিতে বোরো চেয়ারম্যান এবং মেয়র পরিষদ হন তিনি। এরপর নিজের বাড়ির ওয়ার্ড থেকে জিতে কলকাতার মেয়র হন শোভন। ২০১১ এবং ১৬ সালে বেহালা পূর্ব থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক ও মন্ত্রী হন তিনি। তার ঘনিষ্টরা জানান, বেহালা পূর্ব থেকে বিধায়ক হলেও নিজের বাড়ির কেন্দ্র বেহালা পশ্চিম থেকে বিধায়ক হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার।












Discussion about this post