বারবার ভুলে যান তিনি আর বিচারপতি নন, নিজের এজলাস বলেও কিছুই আর নেই। বর্তমানে জনগণের প্রতিনিধি মাত্র। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে প্রথম দিন বক্তৃতা রাখতে উঠেই বিরোধী সাংসদকে স্টুপিড বলায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি। এদিন বাজেট বিতর্কে বলতে উঠে সাংসদদের কার্যত অর্থনীতির পাঠ পড়ালেন প্রাক্তন বিচারপতি। মঙ্গলবার, লোকসভায় বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট বিষয় বলতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন ও বিরোধীদের ধুয়ে দেন তমলুকের সংসদ।
এদিন তিনি বলেন, ‘আমরা ধনী মানুষের কথা বলছি না। আমরা চাকরির জগতের ব্যাপারে কথা বলছি। চাকরিজীবীরা ধনী নন। যদি না তাঁরা প্রচুর ঘুষ খান। এটা অবশ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁদের জানতে হবে। যখন বাজারে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে আসে, নতুন শিল্প পরিচিতি লাভ করে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য কাঠামো তৈরি হয়। আমাকে দেশের সংসদে বলতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী, অন্যান্য প্রবীণ নেতাদের, সতীর্থদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’ সেই সময় কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার উপ দলনেতা গৌরব গগৈ মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁকে জবাব দিতে গিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘স্টুপিডের মতো কথা বলবেন না।’ এমন অসংসদীয় শব্দ কেন ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শুরুতেই কিরণ রিজিজু এই প্রসঙ্গে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, “কোনও সদস্য যদি এমন কিছু বলে থাকে, যাতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আর কেউ অসংসদীয় কথা বলে থাকলে, অধ্যক্ষের হাতে ক্ষমতা আছে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। সাংসদ এমন কোনও কথা বলা হলে পদক্ষেপ করতে পারেন স্পিকার।” এরপরই স্পিকার ওম বিড়লা বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন সাংসদদের। তিনি বলেন, “সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কথা বলতে হবে সাংসদদের। সবাইকে বলব, এমন শব্দ ব্যবহার করবেন না, যাতে মর্যাদায় আঘাত লাগে।”












Discussion about this post