জাতিসংঘকে ভারতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, রিফিউজি সংক্রান্ত কোনও বিলে এই মুহূর্তে সই করবে না ভারত। কারণ হিসাবে ভারতের তরফে দেখানো হয়েছে একাধিক ইস্যু। কিন্তু এই বিল যদি সই করত ভারত, তবে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিতে হত ভারতকে। অর্থাৎ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পশ্চিমের দেশগুলি যেভাবে একশন নেয়, ঠিক সেইভাবে ভারতের প্রতি একশন নিচ্ছে না। আসলে পশ্চিমের দেশগুলি চাইছে, যেভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ ঢুকছে, তাতে রোহিঙ্গা সমস্যা থাকুক ভারতে। এবং এই সমস্যা থেকে যেন ভারত বেরোতে না পারে। যদিও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বলে দিয়েছেন, আমরা এই বিলে কোনওভাবেই সই করব না। ভারত এই চ্যালেঞ্জ টা নিয়ে ঠিক করেছেন। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গিয়েছে, ২৭ মার্চ লোকসভায় অভিবাসন এবং বিদেশি নাগরিক বিল, ২০২৫ পাশ হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিল সম্পর্কে লোকসভায় জবাবী ভাষণ দেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি এও বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা নয়। জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন কাউকে এই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে মন্তব্যের সময়ে অমিত শাহ তুলে ধরেন অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার এবার অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। উল্লেখ্য এই চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর এই বিষয়ে ভারতের হাতিয়ার হবে লোকসভায় সদ্য পাশ হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি নাগরিক বিল, ২০২৫। এ ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত এটা করলে প্রবল চাপে পড়বে বাংলাদেশ।
আসলে জাতিসংঘে সিকিউরিটি কাউন্সিলে জাতীসংঘের কমিশনার মণিপুর নিয়ে মন্তব্য করছেন। যেখানে মণিপুর দেশের একটি অভ্যন্তরীণ ইস্যু। আসলে মণিপুর ইস্যুটিকে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু তৈরি করতে চাইছেন। কিন্ত সে যাই হোক, অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারত যথেষ্ট ওয়াকিবহাল এবং সচেতন। কোনওভাবেই ভারত এই ধরনের ঘটনায় মদত দেবে না। কিন্তু সচেতন নয় বাংলাদেশ। যদিও ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা কড়াকড়ি করেছে। টহলদারি বাড়িয়েছে। যথেচ্ছ পরিমাণে বিএসএফ মোতায়েন করেছে। আসলে শুধু বাংলাদেশের অনুপ্রশকারী নয়। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতে সরাসরি প্রবেশ না করে, বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে ঘুরপথে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য, জঙ্গি সংগঠন করে ভারতে ঢুকে নাশকতা সৃষ্টি করবে। তবে সেগুড়ে বালি। এক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট সচেতন।
Discussion about this post