বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই নিয়ে ভারত চুপ করে থাকেনি। কড়া নিন্দা জানিয়েছে দিল্লী। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। কেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙ্গা হল? বাঙালির স্বাধীনতা লালন পালন করে যারা, তাদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হল। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যের পাল্টা বিবৃতি দিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যা দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা বাড়িয়ে দিল।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে বাড়িতে ধ্বংসলীলা চালানো হল সেটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য। একটি ইতিহাস। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা উচিত।
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রফিকুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অন্য কোন দেশ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। কিন্তু বাংলাদেশের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির ভাঙ্গা নিয়ে নয়া দিল্লি থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। যা বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এটা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত। তিনি আরো জানান, প্রতিবেশী দেশে অনেক ঘটনায় ঘটে। জানিয়ে বাংলাদেশের তরফে কোনরকম মন্তব্য করা হয় না। এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের কাছে বাংলাদেশ ও একই প্রত্যাশা রাখবে।
তবে বাংলাদেশে যেভাবে নৈরাজ্য চলছে, তাতে এটা পরিষ্কার, পদ্মা পারে, বেড়ে উঠছে কট্টরপন্থী মৌলবাদী। না হলে বলব বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো না। যে বাড়ি থেকে গোটা দেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা হয়েছিল, বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্র নেতারা এসে ছিলেন এই বাড়িতে, সে বাড়ি ভেঙে ফেলা হলো। শুধু তাই নয়, যখন এই বাড়ি ভাঙা হচ্ছে, তখন একদল মানুষের বাইরে উচ্ছ্বাস আনন্দ। যে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর।
তবে এই ঘটনা প্রথম নয়। গতবছর ৪ ঠা আগস্ট এর রাতেও দেখা যায় ওই বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করতে। সেইদিনই বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। আবারো সেই বাড়িতেই হামলার ঘটনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে লাভ টা কি হল? এটা কি শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? নাকি এটা বুঝিয়ে ফেলা হল, ছ মাস কেটে গেলেও এখনও দমে যাইনি ছাত্র নেতারা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, যেভাবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মধ্যে কর্মসূচি শুরু করেছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ফেরার পরিকল্পনা করছেন, তাতে ঘুম উড়েছে ছাত্র নেতাদের। কারণ তার একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। তার মধ্যেই যদি হাসিনা দেশে ফিরে আসে, তবে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই এই কার্যকলাপ। যে তাণ্ডব লীলা দেখলেও গোটা বিশ্ববাসী।
আর সেই নিয়েই ভারত বিবৃতি জারি করতেই পাল্টা বাংলাদেশ থেকে এই ধরনের মন্তব্য। সেই মন্তব্য কিভাবে নেয় নয়া দিল্লি এখন সেটাই দেখর












Discussion about this post