আজ ১৭ ই নভেম্বর প্রতীক্ষার অবসান। সকাল থেকেই হাসিনার বিচারের দিকে তাকিয়ে ছিল সারা বিশ্ব।মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ট্রাইবুনাল কোর্ট হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু যেহেতু তিনি এই মুহূর্তে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন সেহেতু এই মুহূর্তে কার্যত তার ভাগ্য নির্ধারিত হবে ভারত সরকারের হাতে।মোদী সরকার যদি এই একই অপরাধে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাহলে হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হবে। সুতরাং এখন সবকিছুই নির্ভর করছে ইউনূস বিরোধী ভারতের উপরেই।আর যদি ভারত সরকার মনে করে হাসিনা দোষী নয় তবে ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়। ১৭ ই নভেম্বর সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন সদস্য বিচারকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। গত বছরের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সরকারের নির্দেশে চালানো নির্মম দমন-পীড়নের জন্য হাসিনা এবং তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় আজ আদালতে। উত্তেজনায় ভরপুর আজ আদালতে রায়দান করতে গিয়ে নানান দিক বিচার করে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে আসিন হয়েছেন এই তিন বিচারক।
দমন-পীড়নে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, হাজার হাজার আহত এবং অসংখ্যের গুমের ঘটনা ঘটেছিল। যা সরকারি আইনজীবী আদালতে তুলে ধরেছিলেন কিন্তু এই রায় যতই কঠোর হোক না কেন, হাসিনার আসল ভবিষ্যৎ এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা সকলেই জানি ভারত হাসিনা পরম বন্ধু এখন দেখার বিষয় এই অবস্থায় ভারত কি সিদ্ধান্ত নেয় সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলাদেশ।কারণ, গত আগস্ট মাস থেকে তিনি ভারতে শরণার্থী জীবন যাপন করছেন। বাংলাদেশের এই ক্যাঙ্গারু কোর্ট এর রায় কতটা বৈধ এবং ভারত কতটা এতে সহযোগিতা করবে এটাই এখন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন। আর সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ইউনূস সাহেব বলা ভালো তার প্রতিটা উপদেষ্টা মহল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্ররা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নামে। কিন্তু হাসিনা সরকারের নির্দেশে পুলিশ, আরএবি এবং সেনাবাহিনী মিলে চালানো অত্যাচারের ফলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। হেলিকপ্টার থেকে গুলি, ড্রোন দিয়ে নজরদারি, সরাসরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।আইসিটির বিচারে প্রমাণিত হয় যে, হাসিনা নিজে এসবের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও ভারতে বসে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে হাসিনা নির্দোষ তিনি বারংবার তার কথায় তুলে ধরেছেন এবং কি ইউনুসের চক্রান্তেই সবকিছু ঘটছে তিনি সেটাও মনে করাতে ভোলেননিত বিচার প্রক্রিয়ায় জানানো হয়েছে হাসিনা ঘৃণামূলক বক্তৃতা দিয়ে উস্কানি দিয়েছিলেন এবং অপরাধীদের শাস্তি না দেওয়ার জন্য দায়ী। এমনকি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি রাষ্ট্রের সাক্ষী অর্থাৎ রাজসাক্ষী হয়েছেন। বিচারকরা বলেছেন,
হাসিনা উস্কানি, হত্যার নির্দেশ এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী। যখন হাসিনার চূড়ান্ত রায় দান শোনানো হয় তখন বিচারক কক্ষে শহীদ পরিবারগণের হাততালির শব্দে ভরে ওঠে, কিন্তু হাসিনা নেই সেখানে। তিনি ভারতে রয়েছেন তাই রায়দানের পরেও সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতের উপর তা বলাই বাহুল্য কারণ হাসিনা এখন রয়েছেন ভারতে।
অন্যদিকে এই রায়ের পর বাংলাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় সেনা, পুলিশ এবং পরমিলিটারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে কাঁচা বোমা বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যাতে কোনো হতাহত না হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরমে। রায়দান পর্ব শেষেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, এটি ‘শহীদদের জয়’। জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পারওয়ারও এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিবাদন জানিয়েছেন। এরপরে ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা দিকে দিকে আওয়ামী লীগ গর্জনে ফেটে পড়ে। এমনকি রায় দানের পরেই ভারতবর্ষের গণমাধ্যমকে হাসিনা বিস্ফোরক কথা তুলে ধরেন। হাসিনা বক্তব্যের মাধ্যম দিয়ে এসবই ইউনুসের পূর্বপরিকল্পিত প্ল্যান তাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। অন্যদিকে বাংলাদেশে হাসিনার সমর্থকরা এটাকে ‘রিগড ট্রাইব্যুনাল’ বলে অভিহিত করছেন। তাঁর ছেলে সাজীব ওয়াজেদ বলেছেন, এটি ‘আগে থেকেই ঠিক করা ফলাফল’, এবং তারা আপিল করবেন না যতক্ষণ না আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার রায় যে এক গভীর রসায়নে দাঁড়িয়ে রয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে।।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এই ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এমন রায় দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
এখন দেখার বিষয় সর্বশেষ ভারত হাসিনা প্রসঙ্গে কি সিদ্ধান্ত নেয় যার ফলে হাসিনার বিচারের রায় দান দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।












Discussion about this post