চীন সফরের সময়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস বেইজিংয়ের প্রতি, উৎপাদন, সরবরাহ এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে স্থান দেওয়ার সরাসরি আহ্বান জানান।
“ভারতের সাতটি রাজ্য, সেভেন সিস্টার্স স্থলবেষ্টিত। সমুদ্রের কাছে পৌঁছানোর কোনও উপায় তাদের নেই। বাংলাদেশের মাধ্যমে চীনের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার গভীরতর আমন্ত্রণ জানিয়ে ইউনূস বলেন বাংলাদেশ সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক।
অর্থাৎ ভারতের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত চিকেনস নেক করিডরে চীনকে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানানো ভারতের জন্য একপ্রকার হুমকি স্বরূপ।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস চিনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তাঁর প্রেস সচিব দাবি
করেছিলেন বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটা বৈঠকের আয়োজন করতে। কিন্তু ভারত এর কোনও উত্তর দেয়নি। এমনকি থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেকের সম্মেলনের ফাঁকে যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আর্জি জানানো হয়েছিল সেটাও কার্যত খারিজ করে দিয়েছে ভারত। অর্থাৎ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে রাজি নন। আর তিনি যে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে অনেকটাই দক্ষ, সেটা প্রমান হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের চিনে দেওয়া এই বক্তৃতায়।
বেজিংয়ে দেওয়া ওই বক্তৃতায় মুহাম্মদ ইউনূস ফের একবার ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে কার্যত হুমকি দিলেন। তাঁর দাবি, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ওই সাতটি রাজ্য ল্যান্ডলক, বা ভূমি দ্বারা পরিবৃত্ত। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলাদেশ এখন মহাসমুদ্রের অবিভাবক। ফলে তিনি চিনকে আহ্বান করেন তাঁর অঞ্চল যেন প্রসারিত করে। এই বক্তব্যের অর্থ হল, চিন যেন ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা সাতটি রাজ্য যেন দখল নেয়।
কূটনীতিবিদরা মনে করছেন ভারত চাইলেই চট্টগ্রাম ত্রিপুরার এবং রংপুর শিলিগুড়ির অংশ হয়ে যেতে পারে। আর তাহলে এই সেভেন সিস্টার্স আর স্থল বেষ্টিত থাকবে না। এই সাতটি রাজ্যও সরাসরি সমুদ্র বন্দরের সুবিধা পেয়ে যাবে। ভারতের জণগনের একটা বড় অংশই এটা চায়। তৈরি আছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও। তবে সত্যিই মোহাম্মদ ইউনুসের সেভেন সিস্টার নিয়ে মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতকে করা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত কি পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।
Discussion about this post