এ কোন বাংলাদেশ? মুক্তিযোদ্ধাদের এক সভায় হামলা চালাল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি! বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় মঞ্চ ‘৭১ নামে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটির সভাঘরে সভা করছিলেন। সেখানেই হামলা চালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু সমন্বয়ক, বিএনপি ও জামাত-ই ইসলামির ছাত্র-যুবরা। তাঁদের শারিরীকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে একাধিক ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কোনও রকমে তাঁদের উদ্ধার করে শহবাগ থানায় নিয়ে যায়। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু গভীর রাতে পুলিশ বাংলাদেশের এক সাবেক মন্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে বলে জানান। ট্যুইস্টটা এখানেই, যাদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিল মবের হাত থেকে, তাঁদেরই ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের পুলিশ। যা নিয়ে বাংলাদেশের একটা বড় অংশে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পুলিশের এই বিমাতৃসূলভ আচরণ নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রের খবর, ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী-সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
শুক্রবার সকালে তাঁদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে হাজির করায় পুলিশ। বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল। এদিন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না আদালতে যাওয়ার পথে এক হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থাকা—এগুলো কি সন্ত্রাস? দেশের সূর্য সন্তানরা এ দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো কি সন্ত্রাস? এই দুই হাত দিয়ে আমি লিখি।”
অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা তথা সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী যদিও আদালতের পথে শুধু মুচকি হেসেছেন, কোনও মন্তব্য করেননি। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমরাই সন্ত্রাসের শিকার, আমাদের মেরে ফেলা হবে। অপরদিকে, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি দাবি করেন, বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন যে কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান তাহলেই তাঁরা ফ্যাসিস্টদের দোসর তকমা পাচ্ছেন। অথচ যে বিশিষ্টজনেরা মবের শিকার হলেন, লাঞ্ছিত হলেন, তাঁদেরই গ্রেফতার করা হল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এর থেকেই প্রমান হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মব সন্ত্রাসকে আইনের মর্যাদা দিয়েছেন।
গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনজীবীর বক্তব্যই হল সার কথা। বাংলাদেশে ইউনূসের রাজত্বে আইন এখন সত্যিই উল্টোপথে হাঁটছে। যারা মব সৃষ্টি করছে, মানুষজনকে প্রকাশ্যে হেনস্থা বা মারধর করছে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের হয়ে সরব হচ্ছেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, পুলিশ প্রশাসন তাঁদেরই বেছে বেছে গ্রেফতার করছে। শান্তির জন্য নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস সত্যিই বাংলাদেশজুড়ে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে মবের মূলুক হিসেবে গড়ে তুলছেন সোনার বাংলাদেশকে।












Discussion about this post