অপারেশন সিঁদূরের পর থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাদ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরকে দেখা যাচ্ছে কার্যত বিশ্বভ্রমণ করছেন। প্রথমে চিনে এসসিও সম্মেলনে দুজনকে একসাথে দেখা গিয়েছে। এরপর তাঁরা যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তাঁরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপরে তাঁরা পৌঁছন মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করে। সর্বশেষ পাক প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন জাতিসংঘের সাধারণ সভায়। প্রতিটি জায়গায় তাঁকে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ জয়ের দাবি করতে শোনা গিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, পাকিস্তান একটা কিছু করতে চাইছে। এখন প্রশ্ন, পাকিস্তান কি করতে চাইছে। আর এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক কি।
সম্প্রতি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনের বুকে দাপিয়ে বেরাচ্ছে। এটা নিয়েই গভীর চিন্তায় ভারত, চিনের মতো বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলি। কূটনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিষয়টি ঠেকাতে পারে কেবলমাত্র বাংলাদেশে নতুন কোনও নির্বাচিত সরকার। কারণ, মুহাম্মদ ইউনূসের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনও জনভিত্তি নেই। তাঁরা অনির্বাচিত, তাই তাঁদের পক্ষে জবাবদিহিতার কোনও প্রশ্ন নেই। ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড যদি ইউনূস সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয় তাতে তাঁদের কিছু যায় আসবে না। আর সেই কাজটাই চুপিসারে করে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশে যদি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়ে যায়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনীতি পুরোপুরি বদলে যাবে। এর ফলে বেকায়দায় পড়বে চিন ও ভারত। কারণ বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত ও চিনের দাপট রয়েছে। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢুকে পড়লে শক্তির ভারসাম্য পাল্টে যাবে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ঘিরে আরেকটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই চট্টগ্রামেই মার্কিন সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আবহে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী দাবি করে বসেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি এলাকার ঘটনার পিছনে ভারতের ষড়যন্ত্র রয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোড়গোল পড়েছে। অপরদিকে, পাকিস্তান যেভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে আনছেন। তাতে খুব শীঘ্রই অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায় ঘটে যেতে পারে। আর সেটা হলে পার পাবে না বাংলাদেশও। এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।












Discussion about this post