বিদায়ী বছরের ৫ ই আগস্ট সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা রেখেছিলেন, এবং তিনি জানিয়েছিলেন তিনি দেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন। প্রধান জানিয়েছিলেন কোন গোলাগুলি হবে না সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু অন্য দিকে শুরু হয়ে গিয়েছিল লুটপাট এর মহোৎসব। বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র গণভবন ভাঙচুর লুটপাট হল আশে পাশে যত বাসভবন ছিল সব গুলিতেই লুটপাট চলল, সেই সঙ্গে সংসদ ভবন ও লুটপাট করেছিল ছাত্র নেতারা। বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
আর এই পরিস্থিতির সাক্ষী হয়ে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের মধ্যে এখন প্রশ্ন, ৫ ই আগস্ট ঘোষণা দিয়ে সেনাপ্রধান দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তারপরই লুটপাট তন্ত্র কেন কায়েম হল?
আমরা দেখেছি ৫ই আগস্টের পর থেকে আগামী তিনদিন বাংলাদেশে কোন সরকার ছিল না, আর সেই তিন দিনে বাংলাদেশের সংঘর্ষ হানাহানি একপ্রকার ডাকাতের রূপ ধারণ করেছিল বাংলাদেশ। তাহলে ওই তিন দিন সেনাপ্রধান তিনি কিসের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন? যদি তিনি দেশকে সুরক্ষাই না প্রদান করতে পারেন।
এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটা মাস, সেনাপ্রধান ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে এবার মাঠে নেমেছেন। এরপর এক ধাপ বেরিয়ে গেছে এখন এসে দাঁড়িয়েছে তৃতীয় ধাপে। বাংলাদেশে হানাহানি সংঘর্ষ লেগেই আছে।
সম্প্রতি ৫ই ফেব্রুয়ারির দিকে যদি আমরা নজর রাখি সেদিনও আরো একটি তান্ডবলীলা চললো বাংলাদেশে। যার কেন্দ্র ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত বাসভবন বুলডোজার চালিয়ে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হল। একদল সাইবার সন্ত্রাসী বিদেশ থেকে ইন্ধন দিয়ে ধ্বংস করে দিল বাংলাদেশের এই ইতিহাস।
এই ঘটনার আগে যখন সন্ত্রাসীরা মাধ্যমে ধানমন্ডির এই বাসভবন ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন, তখন বাংলাদেশের একাংশ মনে করেছিলেন সেনাবাহিনী এই বাসভবনটিকে রক্ষা করবে। কিন্তু সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কথা বলা চলে তারা রক্ষা করার কোন রকম প্রচেষ্টাই করেননি। কারণ তারা ঐদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও, সুরক্ষা না দিয়ে নির্বিকার হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখানে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আলাদা। থেকেও নীরব থাকাটা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আরো ক্ষুন্ন করেছে বাংলাদেশ তথা বিদেশেও।
এবার বর্তমান বাংলাদেশেরএকাংশ সেনাবাহিনীর রাখার প্রয়োজনীয়তা কী, সেই প্রশ্ন তুলছে। কারণ আইসল্যান্ড, পানামা, ভ্যাটিকান সিটি এরকম অনেক দেশেই সেনাবাহিনী ছাড়াই দেশ চলছে। একাংশ বলছে দেশে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর বিকল্প হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের মধ্যে একটি ছোট দেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেনাবাহিনী রাখা সত্যিই কি খুব প্রয়োজনীয়তা আছে? কারণ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে। আর জনগণের ট্যাক্স দিয়ে সশস্ত্র সামরিক বাহিনীকে পরিচালন করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন সেনাকর তাদের ক্যান্টনমেন্টে বসিয়ে না রেখে যদি উন্নয়নমূলক কোনো কাজে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলেই হয়তো সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ নাগরিক কিছুটা উপলব্ধি করতে পারবে।












Discussion about this post