বাংলাদেশের মানুষ হয়তো চল্লিশ পঞ্চাশ বছর পর বুঝতে পারবেন যে, জুলাই বা দ্বিতীয় স্বাধীনতার নামে পাকিস্তানপন্থিরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকামীদের সঙ্গে বদলা নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে সেনার পোশাকে থাকা পাকিস্তানি জঙ্গীদের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের সেনাজঙ্গীরা গণহত্যা খুন ধর্ষন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা সব করলেও, বন্দর দ্বীপ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ পায়নি, জুলাই বিপ্লবের নামে নতুন সরকার গঠন করে সেগুলিও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। দেশের উন্নতিকে আগামী পঞ্চাশ বছরের জন্য থমকে দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত “ট্রেড ডিল” নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। সরকার বলছে এটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি সত্যিই তেমন? মাত্র ১% শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি বোয়িং বিমান ক্রয়, গম আমদানি, এলএনজি চুক্তি এবং শ্রম আইন সংশোধনের মতো বড় সিদ্ধান্ত— এগুলো কি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে?
লোক দেখানো এক শতাংশ ট্যেরিফ কমানোর জন্য ইউনূস দেশের শিল্প এবং কৃষিকে আমেরিকার কাছে আগামী বহু বছরের জন্য দিয়ে দিয়েছেন। যা শুধু লুঠপাট নয় দেশদ্রোহীতাও বটে। যে কারণে এই ইউনূস বাহীনির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়া উচিৎ। এবার দেখে নেওয়া যাক আপতত কোন কোন বিষয়গুলি সামনে আসছে, যেগুলি ইউনূসের বাহীনি দেশদ্রোহীতার নামে করেছেন। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেই চু্ক্তিপত্রে বলা হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ ও সেবা কেনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে এই পরিকল্পনার আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪ টি বোয়িং বিমান কিনবে, শুধু তাই নয় ভবিষ্যতে আরও বোয়িং বিমান কিনবে।বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেক জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। আগামী ১৫ বছরে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এছাড়া প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন গম কিনবে।আর সর্বোচ্চ ১২৫ কোটি ডলারের বা ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া সয়াবিন, তুলা মিলিয়ে ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপন্যও আমদানি করবে বাংলাদেশ। এগুলি দেশদ্রোহিতা এই কারণে যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই শুল্ক চুক্তি করেছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এ চুক্তি সই হয়েছে।
সরকারের বিদায়বেলায় চুক্তিটি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠার বড় কারণ, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা কেউ জানে না। চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।
৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি হলেও কয়েক দিন পরই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। কারণ, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।
এরপর নির্বাচনে বিজয়ী দল গঠন করবে নতুন সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের দায় পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপরই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সুফল কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত কী থাকবে, কোন কোন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এসব নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা নানা প্রশ্নও তুলছেন। তাদের মতে চুক্তির খসড়ার ওপর আলোচনা দরকার। কারণ, এ চুক্তির ফলে যাঁরা ক্ষতির শিকার হতে পারেন, তাঁরা এ ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছেন। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post