দুর্গাপুজো করতে না পারার দুঃখ থেকেই জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়। কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। দুর্গাপুজো, দীপাবলির পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেই শূন্যতা পূরণ করে দেন মা জগদ্ধাত্রী। মা জগদ্ধাত্রী, যা মা দুর্গারই আরেক রূপ। জগদ্ধাত্রী কথার অর্থ হল জগৎকে ধারণ করেন যিনি। জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা বললেই কৃষ্ণনগর থেকে চন্দননগরে বেশ কয়েকটি পুজো চোখের সামনে ভাসতে থাকে। যেমন কৃষ্ণনগরের বুড়িমা, চাউলপট্টির আদি মা, চন্দননগরের তেমাথার রানীমা, কৃষ্ণনগরের মালোপাড়ার মা জলেশ্বরী।
চন্দননগরে জনপ্রিয় জগদ্ধাত্রী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শিব মন্দির তেমাথা সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো। এই দেবীকে প্রত্যেকে রানী মা বলে সম্বোধন করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্তমানে যেখানে তেমাথার নাট মন্দিরটি স্থাপন করা রয়েছে, সেখানে একটি অশ্বত্থ গাছ ছিল। তখন অশ্বত্থ গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হত রানী মায়ের মণ্ডপ। এই রীতি মেনে আজও যখন শোভাযাত্রায় বেরোনো হয়, রানী মায়ের চলচিত্রের উপর দেওয়া থাকে অশ্বত্থ গাছের পাতা। দুর্গা দশমীর দিন কাঠামো পুজো দিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়। প্রায় ৩৫ মন খর এবং ১০০০ কেজি মাটি দিয়ে তৈরি হয় ৩৫ ফুটের সু উচ্চতার রানী মায়ের মূর্তি। শোনা যায়, মায়ের কাছে কিছু চাইলে, মা মনস্কামনা পূরণ করেন।
চন্দননগরের আরও একটি জনপ্রিয় পুজো চাউলপট্টির আদি মা। জানা যায়, ৩০০ বছরের পুরোনো এই পুজো। শোনা যায়, চন্দননগরের চাউলপট্টিতে ফরাসি সরকারের দেওয়ান ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী এই পুজো শুরু করেছিলেন। রীতি আছে, নবমীর দিন মাকে ১৩৮ টি রক্ত পদ্ম নিবেদন করতে হয়। তবে সমস্ত রীতি নিয়ম পালন করেন পুরুষরা। অন্যদিকে কৃষ্ণনগরের আর এক জনপ্রিয় পুজো বুড়িমা। আড়াইশো বছরের পুরনো বুড়িমার পুজো। এখানে প্রতিমাকে প্রায় সাড়ে ৭০০ ভরিও বেশি সোনার গয়না দিয়ে সাজানো হয়। অন্যদিকে ভদ্রেশ্বরে তেঁতুলতলার জগদ্ধাত্রী পুজো জনপ্রিয় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানেও কথিত রয়েছে আরেকটি বিখ্যাত পুজো হল কৃষ্ণনগরের মালোপাড়ার মা জলেশ্বরী পুজো। কৃষ্ণনগরের তৎকালীন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, স্বপ্নদেশ পেয়ে জগদ্বাত্রী পুজো শুরু করেন। এরপর প্রজাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে সেই পুজো। সেইসময় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এর বাড়ির পুজোয় বিসর্জনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন মালো পাড়ার বাসিন্দারা। যারা এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকতেন, তারা প্রত্যেকেই জেলে। তারা যে নৌকোতে মাছ ধরতেন, সেই নৌকো করেই মাকে বিসর্জন দিতেন। এই বিসর্জনের মধ্যে দিয়েই মালো পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে মা জগদ্ধাত্রী আরাধনা করার ইচ্ছে তৈরি হয়। প্রত্যেকেই তারা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে অনুমতি চান। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র অনুমতির সঙ্গে ১৫ টাকা চাঁদা দেন। তারপরই শুরু হয় মালো পাড়ার রাজেশ্বরী পুজো। আজও রাজবাড়ি থেকে ১৫ টাকা চাঁদা এলে, তবেই পুজো শুরু হয়।
কলকাতা হাইকোর্ট বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন শুভেন্দু...
Read more












Discussion about this post