যত দিন যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হচ্ছে। এরমধ্যে পালানোর পথ হারিয়েছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আঁধারে তলিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কেন বলছি? তার কারণ ওয়াকার উজ জামানের বাহিনী এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ওয়াকার বিরোধী আর অন্যটি ওয়াকারপন্থী। সেনানিবাসে কান পাতলে শোনা যায়, ওয়াকার বিরোধীরায় পাল্লায় ভারী। ফলে কি করবেন সেনাপ্রধান? সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে পরিস্থিতি যে জটিল হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার ভারত সফরে আসার কথা। কিন্তু সেটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন সেনাপ্রধান। এমনকি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি সৌদি আরব সফর ছিল তার। সেটিও বাতিল করেছেন। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি কোনও কিছু আঁচ পেয়েছেন জেনারেল ওয়াকার? বাংলাদেশে কি বড় কিছু ঘটতে পারে?
ঘটনার সূত্রপাত হল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৪ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যাদের মধ্যে ১৩ জন কর্মরত। একসঙ্গে এতজন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এর আগে কখনও ওঠেনি। তাদের বিচার সেনা আইনে হবে নাকি ফৌজদারি আইনে তা নিয়ে প্রবল চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমনকি বিচার সেনা আইন বা ফৌজদারি আইনে হবে কিনা, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা উঠে এসেছে। যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হবে। সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এই আইনের অধীনে সেনাবাহিনী র্যারব, পুলিস সহ সবধরনের শৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করার এক্তিয়ার রয়েছে। অর্থাৎ তারা কর্মরত থাকলেও সাধারণ কোনও আইনে নয় বা সেনা আইনে নয়, ট্রাইব্যুনালের আইনেই তাদের বিচার হবে। এরইমধ্যে রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এমইএস বিল্ডিং নম্বর ৫৪-কে সাময়িক ভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বার্ধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। অর্থাৎ সেনা সদস্যকে গ্রেফতার সেনাবাহিনীর। অনেকে বলছেন, এ তো পাকিস্তানের রিটেক। পারভেজ মোশারফ যখন পাক সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন, তখন তাকে গ্রেফতার করেছিল পাক সেনাবাহিনী। পরে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তবে বাংলাদেশে যা ঘটনা ঘটল সেটা পাকিস্তানকেও লজ্জায় ফেলে দেবে। জেনারেল ওয়াকার বিরোধীদের মত, বাংলাদেশ সেনা তো ১৫ জন সেনাকে এমনি এমনি সেনা হেফাজতে নেয়নি। এটা কারও নির্দেশে হয়েছে। আর সেই নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তাহলে কেন তিনি রেয়াত পাবেন? তবে ১৫ জন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাশেই দাঁড়িয়েছে বিরোধী দল বিএনপি এবং জামান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবীর রিজভি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় প্রতিষ্ঠানের উপরে চারানো ঠিক নয়। দেশের গণতন্ত্র, মানবধিকার এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে সুষ্ঠ ও নিমুহ বিচার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। এদিকে ওয়াকার উজ জামান সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন ঘটনায় যে কতটা চাপে রয়েছেন তা প্রমাণ করে বিদেশ সফর বাতিল। এরমধ্যে এখটি ছিল দিল্লি সফর। যেটা ছিল ১২ থেকে ১৪ই অক্টোবর। অন্যদিকে চারদিনের সৌদি আরব সফর ছিল ওয়াকারের। তবে গোপনে দেশ ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেয় বলেই খবর। তবে সূত্র অন্য কথা বলছেন। দেশ ত্যাগের নীল নকশা খুঁজছেন ওয়াকার। তবে কি সেনা অভ্যুত্থানের মতো কিছু ঘটতে চলেছে, এমন কিছু আঁচ পিয়েছেন ওয়াকার? এখন দেখার, আদেও তিনি দেশে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন, নাকি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।












Discussion about this post