বিগত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নাকি তলে তলে নয়া দিল্লির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তিনি বিপদের বাংলাদেশ থেকে “সেফ এক্সিট” খুঁজতে দিল্লির দ্বারস্থ হয়েছেন। বিশ্লেষকদের দাবি, প্রথম থেকে দিল্লির একটাই দাবি বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন করানো, এবং সেই নির্বাচন হতে হবে ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভূক্তিমূলক। আর্থাৎ দিল্লির সাফ কথা, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, তাতে আওয়ামী লীগও থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এমনকি তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটে লড়া কার্যত হচ্ছে না। কিন্তু দিল্লির দাবি অনুযায়ী ইউনূস সাহেবকে তো আওয়ামী লীগের উপর যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আর সেটা কিভাবে সম্ভব? কারণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগে প্রবল অ্যালার্জি জামাত-এনসিপি-বিএনপির। তাঁদের চাপেই অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে কার্যত নিষিদ্ধ করে রেখেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জেলে ভরে রেখেছে। এমনকি জেলের মধ্যেই শতাধিক আওয়ামী কর্মী মারা গিয়েছেন অত্যাচারের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে “আন্তর্জাতিক খিলাড়ি” মুহাম্মদ ইউনূস চেলেছেন এক মারাত্মক চাল। যা তাঁকে সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করে দিতে পারে। আর সেই সুযোগ তাঁকে করে দিচ্ছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।
আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে আগামী নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশ নিতে পারবে না, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিশ্লেষকদের মতে, এটা ইউনূসের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে আওয়ামী লীগ নিয়ে জামাত-এনসিপির চাপ। বিএনপি যদিও আওয়ামী প্রসঙ্গে দ্বিধাবিভক্ত। কিন্তু জামাতের চাপ সামলে হাসিনার দলের বিরুদ্ধে থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যথেষ্টই কঠিন মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। যদিও গত মাসে তাঁর মার্কিন সফরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন আওয়ামী লীগ এখনও বাংলাদেশ বৈধ, কেবলমাত্র দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই ইঙ্গিতটা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আসলে জল মাপতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউনূসের ওই বক্তব্যের পরই এনসিপির তরফে একাধিক হুমকি আসে। জামাতও হাবেভাবে বুঝিয়ে দেয় তাঁরা বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না।
নিউ ইয়র্কে সদ্য শেষ হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেই অধিবেশনের ফাঁকেই তিনি একাধিক মানবাধিকার সংস্থার সাথে বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশে ফেরার পরই তাঁর দফতরে পৌঁছল ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তরফে একটি খোলা চিঠি। তাতে একযোগে সকলেই আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছে। এই ৬টি সংস্থা হল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস, রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের জন্য তারা ১২টি বিষয়ে নজর দিতে বলেছে। চিঠিতে তারা বলেছে, আগের সরকারের সময় সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির বিচারের যেমন উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, বিশেষ করে আওয়ামী লিগ সংশ্লিষ্ট যেসব মামলার যথাযথ প্রমাণ নেই বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রথম হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো প্রথমসারির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আরও পাঁচটি সংস্থা এই প্রথম আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাল। জানা যাচ্ছে, আরও ১০-১২টি মানবাধিকার সংগঠন এই দাবি জানিয়ে চিঠি দিতে চলেছে। অনেকেই দাবি করছেন, এটা আওয়ামী লীগের সফল দৌতের ফল। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটা মুহাম্মদ ইউনূসের চাল। তিনি নিউ ইয়র্কে গিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলির সাথে বৈঠকের পরই এই চিঠি এল। বিশ্লেষকদের দাবি, প্রধান উপদেষ্টাই তাঁদের মাধ্যমে নিজের বাঁচার পথ তৈরি করলেন। এরপর আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে তিনি দাবি করবেন আন্তর্জাতিক চাপের জন্যই অন্তর্বর্তী সরকার এটা করতে বাধ্য হল। এতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post