রাত পোহালেই বাংলাদেশের ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেইসঙ্গে বহু চর্চিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একটি নির্বাচন যে আদৌ হবে, সেটা নিয়েছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ছাড়া এই নির্বাচন কতটা বাস্তবসম্মত সেটা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের বিদায় ঘন্টা কার্যত বেজে গিয়েছে, এটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশে ভোটের ফলাফল কবে বেরোবে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। এটা নিয়ে কম আলোচনা হচ্ছে না। কেউ কেউ দাবি করছেন ভোটের উপস্থিতি যদি আশানুরূপ না হয় তাহলে ফল ঘোষণাও পিছাতে পারে। তবে এর থেকে বেশি এখন যেটা চর্চায় রয়েছে তা হলো ভোটের ফল কি হতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা বা জরিপ ভোটের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তিনেক আগে আরেকটি জরিপ বা সমীক্ষা প্রকাশ হল। তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এই জনমত সমীক্ষাটি করেছে বাংলাদেশের ‘এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ বা ইএএসডি নামে একটি সংস্থা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে সরকারিভাবে বাদ দিয়েই এবার প্রথম কোনও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে। যার মাস্টারমাইন্ড বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। আওয়ামী লীগ না থাকায় বাংলাদেশের নির্বাচনে এবার মুখোমুখি একদা জোটসঙ্গী দুই দল। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বা স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী একদিকে অন্যদিকে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি। যদিও এই দুই দলের পক্ষেই ছোট ছোট করে একটি জোট রয়েছে। ফলে কে বা কারা জিতবে আসন্ন নির্বাচনে তা নিয়ে কৌতূহল কম নেই। দাবি করা হচ্ছে প্রায় ৪১,৫০০ ভোটারের মতামত নিয়ে জনমত সমীক্ষা করেছে ‘এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’। যা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ৩০০ আসনে কে কত ভোট পেতে পারে তার একটা রূপরেখা তৈরি করেছে এই সংস্থা। ওই সংস্থার দাবি এই জরিপ বা সমীক্ষা সর্বোৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এই এই জনমত জরিপের ফল বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৮ আসনে জয়লাভ করতে পারে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি জোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং তাঁদের ১১ দলীয় জোট মাত্র ৪৬ আসনে জয়লাভ করতে পারে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং নির্দল প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়লাভ করতে পারে বলেই ওই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির সমীক্ষা বলছে, বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর থেকে অনেক বেশি আসন পেলেও ভোটের শতাংশের হিসেবে খুব একটা এগিয়ে থাকবে না। বিএনপি পেতে পারে ৪৪.১ শতাংশ ভোট, সেখানে জামাত পেতে পারে ৪৩.৯ শতাংশ ভোট। তবে এই সংস্থা দাবি করেছে কার্যত দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে আসতে চলেছে বিএনপি।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল রিসার্চ সেল-এর সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ২২০টি আসনে জয়লাভ করতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। সেখানে জামাত জোট পেতে পারে মাত্র ৫৭টি আসন। ফলে সব ধরণের জনমত সমীক্ষা বা জরিপে এগিয়ে বিএনপির জোট। জামাতের ভরাডুবি আসন্ন। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি তাই? যেখানে বিগত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সাংসদ নির্বাচনে জামাত এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ইতিহাস রচনা করেছিল। তখন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে খুব ভালো ফল করবে। কিন্তু কোন সমীক্ষাতেই তাদেরকে এগিয়ে রাখা তো দূরের কথা এক তৃতীয়াংশ ভোট দিতেও নারাজ। এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপির দিকে যাচ্ছে? বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল কবে ঘোষণা হবে ? তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। যেহেতু ব্যালটে ভোট তা গণনা করতে একটু সময় লাগে। অর্থাৎ ১২ তারিখ নির্বাচনের পর ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টা সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই সমস্ত সমীক্ষা থেকে একটা ব্যাপার স্পষ্ট তারেক রহমানের নেতৃত্বধীন বিএনপি এবারের ভোটে বাজিমাত করতে চলেছে। উল্লেখ্য, ভারত সরকার বিএনপির দিকে ঝুঁকে রয়েছে। ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার করবেন কি? ওয়াকিবহাল মহল বলছে না আঁচালে বিশ্বাস নেই। ভোট হোক, গণনা হোক তারপর প্রকৃত ফলাফল পাওয়া যাবে।












Discussion about this post