জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে দলেরই এক নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল তোলপাড় চলছে। ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশের এক সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর, তাঁর ফেসবুক পোস্টে একটি অডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। তাঁর দাবি এনসিপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দলেরই এক নেত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। সেই অডিও ক্লিপে ওই নেত্রীকে বলতে শোনা যায়, সারোয়ার তুষার তাঁর কাছ থেকে ছবি চেয়েছেন এবং ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য একটি যৌন হেনস্থামূলক দাবি করেছিলেন। ওই সাংবাদিকের দাবি, মূল অডিও ক্লিপটি ৪৭ মিনিটের ছিল, কিন্তু তিনি কুপ্রস্তাবের কয়েকটি নির্দিষ্ট অংশ প্রকাশ করেছেন। এরপরই এনসিপি প্রবল চাপে পড়ে যায়। তড়িঘড়ি মহিলা নেত্রীকে যৌন হেনস্থামূলক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাঁকে পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সেই সময় পর্যন্ত সারোয়ার তুষারকে এনসিপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত বাংলাদেশের এনসিপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন অবশেষে। মঙ্গলবার দুপুরেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি দীর্ঘ একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, আমাকে যারা খেয়াল করেন, আমার ওপর ভরসা করেন, প্রত্যাশা রাখেন। আমি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে না। মানুষ হিসেবে আমার আরও ডেভেলপ করার স্কোপ আছে। যদি কোনো ভুল করি, অবশ্যই আপনারা আমাকে তা জানাবেন, আমি শুধরে নিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমি কোনো অপরাধ করি নাই। এ ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল ও ব্যাশিং আমি ডিজার্ভ করি না। কোনো মানুষই করেন না। এই স্মিয়ার ক্যাম্পেইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি লেখেন, আমার দলের কেন্দ্রীয় একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নারী সহকর্মীকে যেভাবে অপমান করা হচ্ছে, তার সাথে আমার ছবি জুড়ে দিয়ে, জঘন্য কুৎসিত কথাবার্তা লিখে, ভিডিও বানিয়ে আমার আর তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। যারা এই কুৎসিত কাজগুলো করছেন, দয়া করে করবেন না। কিন্তু বাংলাদেশি সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ফের একটি অডিও ক্লিপ শেয়ার করে দাবি করেন, তাঁর মুখোশ খুলে যাওয়ার পর ওই মহিলা নেত্রীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধেও কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এমনিতেই সদ্য গঠিত হওয়া এনসিপি নেতা ও সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অসংখ্যা অভিযোগ। এরকম যৌন হেনস্থামূলক প্রস্তাবের অভিযোগ এই প্রথম নয়। বিগত কয়েকমাসে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে উঠেছিল। একটি ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া তোলাবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে এনসিপি নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। সবমিলিয়ে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টি দুর্নীতি এবং নোংরামিতে এগিয়ে গিয়েছে অন্যান্যদের থেকে। তাঁদের বিরুদ্ধে জনমতও গড়ে উঠছে। ফলে পিঠ বাঁচাতেই তড়িঘড়ি সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল দল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হয়নি। কার চাপে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সেটাও দেখা উচিৎ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এমন চলতে থাকলে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে দাঁড়াবে।












Discussion about this post