আসিফ নজরুল। যিনি বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা। তিনি গত বছর ছাত্রদের আন্দোলনে যেমন গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, একইভাবে যখন গণ অভ্যুত্থানের জেরে নতুন সরকার গঠন করা হল, তখনও তাকে অগ্রভাগে দেখা গিয়েছিল। তিনি সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এবং মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিচ্ছেন। তাদের উপর ভরসা রাখার কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ তিনি ছাত্রদের অত্যন্ত প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু হঠাৎ কি এমন ঘটল, যেখানে ছাত্রদের চক্ষুশূল হয়ে উঠলেন? এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির তরফে পাঁচজন উপদেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারমধ্যে কেন আসিফ নজরুলের নাম এল? এমনকি এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি বললেন, আসিফ নজরুলের ইচ্ছে নাকি প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার। তবে সত্যিই তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন? তবে তো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে!
জুলাই আন্দোলনের সময় আসিফ নজরুল ও ছাত্রদের মধ্যে যথেষ্ট ঐক্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। কারণ হঠাৎ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি বলে বসলেন, আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টা হতে চেয়েছিলেন। রাজধানির প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। সেখানে তিনি বলেন, এখন তার কোর্টে বল গিয়েছে। এখন দেখার, তিনি কিভাবে খেলতে পারেন! তবে কি তিনি এটা বোঝাতে চাইলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি একটা বিপরীতমুখী অবস্থানে ছিলেন। যে অবস্থানে মূলত বিএনপির ছিল। বিএনপির অবস্থানে আসিফ নজরুলের অবস্থান ছিল। তিনি চাইছিলেন না, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের এই বিষয়টি ঘটুক। এবং এনসিপি সাক্ষর না করলে কিছু যায় আসে না। সেটাই সম্ভবত বোঝাতে চাইলেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া জুলাই শহীদ ও জনগণের বড় অর্জন। জুলাই সনদ সাক্ষর করার না কারণে হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। কিন্তু ঝুঁকি নিয়েছিল এনসিপি। ঐক্যমত কমিশনের রিপোর্টের মাধ্যমে এর সুফল পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, ৭২ এর পচা সংবিধান দিয়ে এই দেশ আর চলতে পারে না। এই সংবিধান আমাদের ভাইদের হত্যার বৈধ্যতা দিয়েছে। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারিরা কি আদেও বোঝেন, সংবিধান কাকে বলে? কোনও দেশের সংবিধানে হত্যার কথা দেখা থাকতে পারে কি? এমনকি এনসিপি নেতা বলতে চেয়েছেন, দেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে। এনসিপি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করবে। এমনটাই আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এই সবের মাঝে প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা হতে চেয়েছিলেন আসিফ নজরুল। অর্থাৎ কোনওভাবে মুহাম্মদ ইউনূস সরে গেলে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হবেন। যেটা হয়তো এনসিপি নেতারা আর চাইছেন না। সেই কারণেই পাঁচজন উপদেষ্টার মধ্যে আসিফ নজরুলের নাম রয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ছাত্রনেতাদের মধ্যে যেমন ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একইভাবে উপদেষ্টা মণ্ডলীর মধ্যেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য নেই, তারা কীভাবে দেশ চালাবে? সাধারণ মানুষ যে আস্থা রাখতে পাচ্ছে না, সেটা আগামী নির্বাচনেই পরিস্কার হয়ে যাবে।












Discussion about this post