বহু প্রতিক্ষার পর হল বাংলাদেশের নির্বাচন। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। অনেক জায়গা থেকে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগবিহীন বাংলাদেশের নির্বাচনে শেখ হাসিনার পুত্র বড়সড় অভিযোগ এনেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি ভোট দিয়ে রিগিং করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে এই অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ভোটে কারচপি হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন জয়। কিন্তু ভোট শুরুর আগের দিন থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগ না থাকাকালীন বিএনপির ফাঁকা মাঠে ভোট পড়ছে। ফাকা মাঠের ভোটে জামায়েত ইসলামীদে প্রতারণার চিত্র সামনে এসেছে। কোথাও টাকার বাক্স ধরা পড়ছে, কোথাও ব্যালট বক্সের চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। এককথায় জামাত প্রতারণা করে ক্ষমতায় আসতে চায়। সৈয়দপুর, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াতের ১২ নেতা আটক হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নেতাদের আটক করা হয়। নোয়াখালীতে হ্যান্ডবিল ও টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকরা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন। সিরাজগঞ্জে এক নেতা জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান। কালাপাড়ায় একজন নেতার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। আবার, সৈয়দপুর থেকে ৭০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কিন্তু এই ভোটের ফলে যে সব কিছু আওয়ামী লীগের জন্য শেষ হয়ে গেল তেমন কিন্তু না। আওয়ামী লীগের হারার কিছু নেই, হতাশার কিছু নেই, আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে না তাদের কোনও রকম কোনও সমস্যা নেই। এবার যে সরকার ক্ষমতায় আসছে সেই সরকার কতদিনের জ্ন্য আসবে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। ভোটের আগের দিন কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশে উড়ছে। কুমিল্লায় ২ লাখ, লক্ষ্মীপুরে ১৫ লাখ বিভিন্ন জায়গায় টাকার ছবি ধরা পড়ছে। তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। এত টাকা কোথা থেকে আসছে এই প্রশ্নের উত্তর কোথাও নেই। ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য এত টাকা উড়ছে বাংলাদেশে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। জামাতের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিএনপি বলছে, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। একটা নির্বাচনে কী এগুলো হতে পারে প্রশ্নটা রাখলাম আপনাদের কাছে। বাংলাদেশের ভোট নিয়ে এক্স হ্যাণ্ডেলে লেখিকা, তসলিমা নাসরিন পোস্ট করেন, “যদি বিএনপি জয়ীও হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার প্রধান বিরোধী দল হবে জামাত। এমনটা ঘটবে কারণ আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” নির্বাচনে জিতে যারা সরকার গড়বেন, তাদের প্রতি তসলিমার বার্তা, “আশা করি নির্বাচিত সরকার আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, যাতে করে বিরোধী দল ধর্মনিরপেক্ষ বা বামপন্থী দল থেকে আসে, কোনও ধর্মীয় দল থেকে নয়।” জামাত না বিএনপি, পাল্লা ভারী কার? সেই দিকে নজর প্রত্যেকের।












Discussion about this post