বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গুম, খুন, মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২৪ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার মধ্যে ১৫ জন সেনা আধিকারিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাদের আপাতত সেনানিবাসের সাব জেলে রাখা হয়েছিল। সেনানিবাসের মধ্যে সাব জেল করে তাদের রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ অন্তবর্তীকালীন সরকার। এইবার তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১র চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক এই নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। সেনানিবাসের এই ঘটনায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছিলই। এইবার আরও তীব্র হল। কেউ বলছেন, জেনারেল ওয়াকার চাইলেই, তিনি বিষয়টি এড়াতে পারতেন। তিনি ইচ্ছে করেই এটা করিয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, তাকে বিপদে ফেলার জন্যই কেউ করিয়েছে। কেউ কেউ আবার এটা বলারও চেষ্টা করছেন, যে কোনওভাবে যুদ্ধ চাইছেন ওয়াকার?
জানা যায়, অভিযুক্ত সেনাকর্তার প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইবুনালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এলাকাজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র্যা ব ও পুলিশ নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল। যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এমনকি যাতে কেউই ওই চত্বরে এসে গন্ডোগোল বাঁধাতে না পারে। এদিকে সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ঘিরে রাজধানী সহ একাধিক জায়গাতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভোর থেকেই ট্রাইবুনাল ও হাইকোর্টের মাজারগেট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টন সহ বিভিন্ন জায়াগায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল মোট ১৫ জন সেনাকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের কোন জেলে রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে এবং সেই মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। এই ১৫ জন সেনাকর্তার মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গির আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, ব্রিগেডিয়ার মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদায়ুল ইসলাম এবং বিজিবির প্রাক্তন কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। এই বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, আদালত থেকে তাদের সেনানিবাসের সাব জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তারা থাকবেন। অন্যদিকে সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ সারোয়ার হোসেন বলেন, ওই সেনা কর্মকর্তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। তারা একেবারে নির্দোষ। যেটা আদালতে প্রমাণ হবে। অন্যদিকে তিনি বলেন, যারা অপরাধ করেছে তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কোন পদ্ধতিতে আদালতে হাজির করাবে, সেটা কারা কর্তপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post