বাংলাদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে নির্বাচনের তোড়জোড়। বিএপি বেশিরভাব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। এনসিপি থেকেও ঘোষণা আসছে। জামাত অনেক আগেই ৩০০ আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে। ঠিক এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, এখন কি খবর আওয়ামী লীগের? অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে ১৪ দলের কি খবর? তারা কি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন? নাকি তারা ধরেই নিয়েছেন, যে আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না? তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃত্বের তরফে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছে। সেক্ষেত্রে কি হতে চলেছে বাংলাদেশের আগামী সংসদীয় নির্বাচন?
বহু টালবাহানার পর শেষমেশ নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশে। জানা যাচ্ছে, বিএনপি এবং জামাত ও এনসিপির প্রার্থীদের নাম। সবার প্রথমে মনোয়ন জমা দিয়েছে জামাত। এই মুহূর্তে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগ কি ভাবছে? যেটুকু দেখা যাচ্ছে, তাতে জাতীয় পার্টির তেমন কোনও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অবস্থানের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। ২৯ অক্টবর শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনটি আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যমে। সেখানে তিনি একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না। আর সেই নির্বাচন হলে তারা নির্বাচন বয়কট করবে। অর্থাৎ তাদের নেতা কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবে না। আওয়ামী সমর্থকরা নির্বাচন করবে না। তবে কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বাস্তবে কি চলছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের বহু নেতা, কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা মামলা রয়েছে। অনেকে জেল হেফাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি অনেকে দেশেই নেই। সেক্ষেত্রে ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মাঠ গোছাতে সময় লাগবে আওয়ামী লীগের। তার কারণ, তাদের নেত্রী দেশে নেই। দেশের বাইরে থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে গেলে সময় প্রয়োজন। আর মাত্র একমাস বাকি রয়েছে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে। অনেকে বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার ভোটে অংশ নেওযার জন্য সুযোগ করে দেবে শেখ হাসিনার দলকে। যাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভাবমূর্তি বজায় থাকে। কিন্তু তারপরও নির্বাচনের গুটি সাজানো মুশকিল। কারণ ঝটিকা মিছিল বা প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করতে তেমন কৌশল প্রয়োজন নেই। যতটা একটা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি গণঅভ্যুত্থানের জেরে যেহেতু শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে, ফলে তাতে সাধারণ মানুষকে বোঝানোরও দায় থাকবে আওয়ামী লীগের। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃত্ব বলছে, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি হচ্ছে দল। সেটা বাইরে থেকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলও নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার দল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উপস্থাপন করতে পারে, নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়নি বাংলাদেশে। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতা দখল করে এসেছে। আসলে নির্বাচনকে বিতর্ক করার চেষ্টা চালাতে পারে। এখন দেখার, শেষমেশ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন!












Discussion about this post