সদ্য বাংলাদেশ ঐক্যমত কমিশনে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এদিন বৈঠকের নানারকম ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। যেমন দেখা গিয়েছে এই বৈঠকের শেষে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে এনসিপি নেতৃত্বের বিতর্ক। এর পাশাপাশি আরো একটি ঘটনা যেটি এখন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে সে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। কমিশনের বৈঠক অর্থাৎ সরকারের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে অন্যান্য দলের মতই একেবারে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি। এই বৈঠকের পরে বিএনপি’র থাই কমিটির জরুরী বৈঠক সম্পন্ন হয়। এই বৈঠকেবেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। বিএনপি’র এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি আদৌ কি কার্যকরী হবে? হলেও কতটা দ্রুত গতিতে হবে? অর্থাৎ যখন রাজনীতিতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ তখন বিএনপিকে নিয়ে শুরু হল নতুন খেলা।
ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে ঘটে গিয়েছে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা, যেখানে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতৃত্ব। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবর্তমানে সবচেয়ে প্রাচীন এবং বড় দল বিএনপি। গতবছর সরকার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকেই ভারতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে অন্যান্য দেশে গিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দিক থেকে নিষ্ক্রিয় থাকায়, এখন সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু যেন বিএনপি। পরিস্থিতি এমন যে সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দলগুলি অর্থাৎ জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামাতে ইসলামীর বিপক্ষে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে বিএনপিকে। সেদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইছে বিএনপিকে এখন নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে রাখতে। থেকে বাস্তবায়িত করতে যা যা করা দরকার সেই প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে অন্তর্ভুক্তি সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলি। আর এই ষড়যন্ত্রের আজ পেয়েই বিএনপি এবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক সারলো। এই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভাপতিত্ব করতে দেখা গিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিনিও দেশের বাইরে থাকায় ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যোগদান করেন।
গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর।প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই সেই নির্বাচন,এই দুটি বিষয়ে অবিচল থাকছে বিএনপি।
উল্লেখ্য, জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে এদিন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আলোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে টোকিওর নিক্কেই ফোরামের অনুষ্ঠানে মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন,বাংলাদেশে শুধু একটি দলই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে ইতিমধ্যেই বিএনপিসহ বিভিন্ন দল এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
মহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নেওয়া সিংহভাগ দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। যদিও অধ্যাপক ইউনূস এখনো তাঁর আগের অবস্থানেই আছেন। তিনি এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে একাধিকবার দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এবার সেদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই দ্রুত নির্বাচন যে তার এই দাবিকে নস্যাৎ করেছে। ফলে বিএনপির তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনের সময় নিয়ে সরকারের সঙ্গে যত মনোমালিন্যই হোক, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনেই নির্বাচন চায় বিএনপি। তবে যদি সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয় তবে অন্য পথে হাঁটতে হবে দলটিকে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত বিএনপির।












Discussion about this post