১৫ই আগস্ট যত কাছে আসছে ততই আশঙ্কা বাড়ছে জঙ্গী নাশকতার। সেই কারণে বাড়ানো হচ্ছে দেশের সুরক্ষা বলয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে পট পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ লাগায়ো সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে বিএসএফের তৎপরতা বেড়েছে অনেক বেশী। বিশেষ করে দেশেরই কিছু মানুষ লোভে পড়ে অথবা ভোট ব্যঙ্ককে মজবুত রাখতে গিয়ে বা অন্য কোন কারণে বিদেশীদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বানিয়ে দিচ্ছে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে। ফলে বাড়ছে সীমান্ত সন্ত্রাস। মাত্র কিছু দিন আগে কলকাতা বিমান বন্দরে দেখা গেল অনুপ্রবেশের এক অভিনব ঘটনা। এব বাংলাদেশী যুবক ভুয়ো পাসপোর্ট বানিয়েছিল এবং সেই ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে জার্মানিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।ইমিগ্রেশন দফতর তাকে সন্দেহ করে এবং জেরা করতে শুরু করে, জেরার ফলে আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসে, এবং তার কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ পাসপোর্টে তার নাম শ্রমিক বড়ুয়া আর ভারতীয় পাসপোর্টে তার নাম পরেশ রায়, বড় বিষয় হল তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট কিভাবে বানালেন এবং কেন বানালেন, আবার সেই পাসপোর্ট দেখিয়ে কেন বিদেশে চলে যেতে চাইছিলেন।ফলে এখন বাংলাদেশ যে ভারতে জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে তৎপর তা দিনে দিনে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। আর এরকম কিছু হওয়ার আভাস পেয়ে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ। ফলে এই সন্ত্রাস রুখতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে ধর্মীয় স্থানেও হানা দিতে হচ্ছে বিএসএফকে। আর কিছু মানুষের ভুলের কারণে দেশের যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা তারা বুঝতে পারছে না।যদিও খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ না বুঝে এই সব জঙ্গীদের সাহায্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এবার জঙ্গী দমনে তৎপরতা দেখাতে গিয়ে,বিএসএফের বিরুদ্ধে ধর্মাচারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাংলায়। মালদার তপন ব্লকের গুড়াইল গ্রাম পঞ্চায়েতের বাখরপুরে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা একটি প্রাচীন মসজিদে ঢুকে নামাজের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।গ্রামবাসীদের দাবি, মাগরিবের নামাজ চলাকালীন প্রায় ২০০-২৫০ মিটার দূরে থাকা ছত্রহাটি সীমান্ত চৌকি থেকে কয়েকজন বিএসএফ জওয়ান মসজিদে ঢুকে কয়েকজন মুসল্লিকে ধমক দিয়ে বাইরে নিয়ে যান এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, দুপুরে নাকি ওই মসজিদে একজন বাংলাদেশি এসে নামাজ পড়েছিল এবং তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠাতে গ্রামবাসীরা সাহায্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাজিউর চৌধুরীর বক্তব্য, তাঁদের মসজিদের পিছনেই সবসময় বিএসএফ মোতায়েন থাকে। কোনও বাংলাদেশি ঢুকেছে বলে গ্রামবাসীদের জানা নেই। গ্রামবাসীরা সীমান্ত সুরক্ষায় সবসময় সহযোগিতা করেন। কাঁটাতারের জন্য জমি দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু নামাজে বাধা দেওয়া গ্রহণ যোগ্য নয় বলে দাবী করেন তারা। জানা যায়, ঘটনার সময় মসজিদে ঢুকে ইরফান চৌধুরী নামে একজনকে এবং আরও কয়েকজনকে নামাজ শেষ হওয়ার আগেই বাহিনীর সদস্যরা বাইরে নিয়ে যান। ‘প্রমাণ’ থাকার দাবি করে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করা শুক্রবার সকালে তপন থানার পুলিশ গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত শুরু হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বাসন্তী রায়ও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশি খোঁজার নামে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাখরপুর গ্রামের কিছু অংশে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে ওই এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে গ্রামবাসীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানান। তবে অনুপ্রেবেশের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবং এই অনু্প্রবেশকারীরা যে বসবাসের জন্য এদেশে আসছেন না, এবং বিভিন্ন নাশকাতা মুলক কাজের জন্যই তারা এদেশে আসছেন তার প্রমানও পাওয়া গিয়েছে বহুবার।












Discussion about this post