এক বিলিয়নে কতগুলো শূন্য থাকে বলুন তো? কি ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হল তো? এক বিলিয়নে ৯টি শূন্য থাকে। ফলে সেটা যদি টাকার অঙ্ক হয়, তাহলে এই পরিমানটা কতটা বেশি সেটা একবার ভাবুন। বাংলাদেশের বর্তমান শাসক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। ১৬ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর! এবার ভাবুন টাকার অঙ্কটা ডলারের নিরিখে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? তবে ইউনূস সরকার শুধু অভিযোগই করেনি, রীতিমতো একটি কমিশন গঠন করে তদন্ত করে এই পরিমান অঙ্কের গরমিল খুঁজে বের করেছে। সেটা আবার শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশও করেছে। বিষয়টা নিশ্চই স্বচ্ছতার নিরিখে খুব ভালো, তবে হাসিনা আমলে বিদেশে পাচার হওয়া মোট টাকার অঙ্ক অনেকটাই ভাবায়।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গত বছরের ১ ডিসেম্বর। সে সময় প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, শেখ হাসিনার শাসনামলের দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ভয়ংকর রকমের আর্থিক কারচুপির যে চিত্র প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। সত্যিই আতঙ্কিত হওয়ার মতো। তবে এটা কতটা সঠিক আর কতটা জল মেশানো সেটা জানা প্রয়োজন।
শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়েছে, হাসিনার ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকার ৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করা করেছে এবং এর ৪০ শতাংশই নাকি আমলাতন্ত্র লুট করেছে। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ প্রকৃত খরচ। শেখ হাসিনার আমলে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, রংপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ঢাকা মেট্রো রেলের মতো বড় বড় প্রকল্প রূপয়িত হয়েছে। এছাড়া আরও ছোট মাঝারি সেতু, ফ্লাই ওভার বা হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এত টাকা যদি লুটই হয়, তাহলে এই প্রকল্পগুলি কিভাবে সফল হল? এত চুরির পরও এত উন্নয়ন কিভাবে করলেন শেখ হাসিনা? প্রশ্ন আরও আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকেরই তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। আর সেটা শেখ হাসিনার আমলে এত চুরি ও দুর্নীতির পরও। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, সেই রিজার্ভ ধীরে ধীরে কমে গত বছরের জুলাইয়ে তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়নে। তবে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল তা বেড়ে ২২ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। এই হিসাব মুহাম্মদ ইউনূসের আমলের। প্রশ্ন সৎ ও দায়িত্বশীল অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ কিভাবে তলানিতে চলে এল? যদিও বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ পাচার ও হুন্ডির চাহিদা কমেছে। ফলে প্রবাসী আয় ২৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং রফতানি আয় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। তাহলে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ কেন ২০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে? প্রশ্ন অনেক, উত্তর নেই।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার এখন সর্বোচ্চ। ফলে বিগত দুই বছরে নতুন করে ৭৮ লক্ষ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেকারত্ব। যাইহোক, একজন অর্থনীতিবিদ হয়েও মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে দাবি করছেন বছরে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করেছে হাসিনা সরকারের নেতা মন্ত্রী ও আমলারা সেটা কতটা সঠিক। বিগত দশ মাসে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাড়লো না। অথচ এই সময়ে বাংলাদেশে নতুন কোনও প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়নি। আবার পুরোনো প্রকল্পের টাকাও ছাড়া হয়নি। অর্থাৎ উন্নয়ন খাতে ব্যয় নেই বললেই চলে। তাহলে ডলারগুলো সব গেল কোথায়! মুহাম্মদ ইউনূস তার জবাব দেননি। বরং উঠতে-বসতে তোতাপাখির মতো দাবি করে চলেছেন হাসিনা আমলা কোটি কোটি বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে এবং পড়ে তিনি দাবি করেন, বিদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ তিনি ফেরত আনবেন। কিন্তু কোথাও কোনও তথ্য প্রমান তিনি দিয়েছেন বলে জানা যায়নি। একটাকাও ফেরত আনতে পারেননি। বরং এবার ব্রিটেন সফরে গিয়ে মুখ পুড়ল তাঁর। ফলে মিথ্যার বুলি দেওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের পর্দা এবার ফাঁস হচ্ছে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।












Discussion about this post