ফের তত্বাবধায়ক সরকার ফিরতে চলেছে বাংলাদেশে….এমন একটি আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে কি ইউনূস সরকারের বিদায় হতে চলেছে? আসলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনও সাংবিধানিক বৈধতা নেই। নেই জনগণের কোনও অনুমোদন। তারা শুরু থেকেই সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। অনেকেই বলছেন, বিচারপতিদের সই জল করে ১০৬ নম্বর ধারা দেখিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে ইউনূস সরকার। এখন বাস্তবতা হল, এই সরকারের পায়ের তলায় কোনও মাটি নেই। ঠিক এই সময়ে আপিল বিভাগে শুরু হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালের শুনানি। এটি রাজনৈতিক মঞ্চে যেন একটি দিক নির্দেশনা। একটি সাত সদস্যের বেঞ্চে বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নেতৃত্বে সেই শুনানি চলছে। যুক্তি উপস্থাপন করছেন ডক্টর শরীফ ভুঁইয়া। যার বক্তব্যে একটি স্পষ্ট সুর লক্ষ্য করা যায়, যে বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন যে বেঞ্চ..২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। তারা সংবিধান দেখিয়ে ভুল করেছে। তার কারণ তারা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল আওয়ামী লীগের দাবিতে। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ এই সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কারণ তারা বোঝে, এই সরকারের আমলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে না। এবং তখনই শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক বিরোধী আন্দোলন। এমনকি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তখনই ব্যবস্থাটি বাতিলও করা হয়। কিন্তু ফের ইতিহাস ফিরছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় বাংলাদেশে।
কিন্তু এই সরকারের নিয়োগ, গঠন সবই প্রশ্নচিহ্নের মুখে। এদিকে দেশের অন্দরেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিএনপি থেকে জামায়াতি ইসলামী প্রত্যেকে এই সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিএনপি বলছে, সরকারকে নিরপেক্ষতার দিকে হাঁটতে হবে। অন্যদিকে সুর বদলাতে শুরু করেছে জামায়াতি ইসলামী এবং এনসিপি। তারা ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠকগুলির মধ্যে দিয়ে ইউনূস প্রস্তুতি নিচ্ছেন একটি সম্মানজনক প্রস্থানের জন্য। কারণ তিনি জানেন, আপিল বিভাগে যদি তত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে রায় আসে, তাহলে তার সরকারের কোনও বৈধতা থাকবে না।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরে, তবে সেই সরকারের মাথায় কে বসবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেই থাকুক না কেন, ইউনূস থাকছেন না। তার ভূমিকা এখন শেষ। বাংলাদেশে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, তার দায় তাকেই নিতে হবে। এদিকে বছর ঘুরে গিয়েছে। তিনি একটি সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে পারেননি। তার ব্যর্থতা বারেবারে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে সংখ্যালঘুরা লাঞ্ছিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের পরিস্থিতি স্থীতিশীল জায়গাতে ফেরাতে তিনি ব্যর্থ। এখন এই পরিস্থিতিতে কেউ প্রশ্ন করছেন না, তত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে কিনা! বরং অনেকে প্রশ্ন করছেন, তত্বাবধায়ক সরকার কবে ফিরবে! এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়!












Discussion about this post