বাংলাদেশে নাকি আসতে চলেছে google pay। যা ঘিরে দেশে এখন হইচই ব্যাপার। কি এই গুগল পে? বিকাশ, নগদ, রকেটের মতোই কি কোনও পেমেন্ট অ্যাপ? এটা ব্যবহার করলে কি উদ্বৃত্ত কোনও টাকা খরচ করতে হবে? আদতে কি লাভ বা কি ক্ষতি? সবাই কি এই পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে? ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে কারা? এমন নানা প্রশ্নে বিদ্ধ বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবহারকারীরা।
Google pay. এটি একটি পেমেন্ট লেনদেনকারী অ্যাপ। এটি ভারত, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ছাড়াও বহু উন্নত দেশে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই প্রথম আসতে চলেছে গুগল পে। শোনা যাচ্ছে, সম্ভবত সামনে মাস থেকেই এটি চালু হতে পারে বাংলাদেশে। তবে এই পরিষেবা প্রত্যেকে চাইলেই নিতে পারবে? এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, চাইলেই সবাই এটি ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কারও সিটি ব্যাংকে একাউন্ট থাকে, তবেই সেটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে সেই ব্যাংকের একাউন্ট থাকলে সেটি ভিসা বা মাস্টার কার্ড হতে হবে। আমেক্স বা সাধারণ কার্ড হলে গুগল পে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি যাকে পেমেন্ট আপনি করছেন, তারও গুগল পে থাকা আবশ্যিক। অর্থাৎ উভয় পক্ষেরই সিটি ব্যাংকের একাউন্ট থাকতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এখনও তো কিওয়ার কোর্ড স্ক্যান করে যে কোনও ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে টাকা পাঠানো যায়। তবে গুগল পে লাগবে কেন? আসলে যখন বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাংক গুগল পের আওতায় চলে আসবে তখনই এর আসল কার্যকারিতা বোঝা যাবে। তখন যেকোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য যেকোনও অ্যাকাউন্টে পাঠাতে google pay এর মাধ্যমে সহজেই করা যাবে। এখন যেমন এক ব্যাংক থেকে আর এক ব্যাংক টাকা পাঠানো যায়, তবে অনেক সময় সার্ভারে ডাউনের ফলে টাকা আটকে যায়। কারণ আপনার ব্যাংক থেকে প্রথমে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে, তারপর যে ব্যাংকে পাঠাতে চান সেই ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এ পাঠাতে হবে। ফলে মাঝখানে ঝামেলা রয়েছে প্রচুর। কোনও একটা ব্যাংকের সার্ভারে সমস্যা থাকলে, সেই টাকা আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তখন আপনাকে অভিযোগ জানাতে হবে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপর আপনি টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু যখন google pay চালু হয়ে যাবে, তখন ওই টাকা ফেরত পাওয়া বা সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে google pay।
এই google pay ভারতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জানা যায়, ভারতে ৫৭ শতাংশ টাকা, গুগল পের মাধ্যমে লেনদেন হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বলা হচ্ছে বাংলাদেশের google pay চালু হলেও iphone ব্যবহারকারী এই পরিষেবা নিতে পারবে না। অবশ্য সেই ফোনে তাদের নিজস্ব পেমেন্ট সার্ভিস অ্যাপ রয়েছে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের শুধুমাত্র এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এই সার্ভিস নিতে পারবে। দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, গ্রাহকেরা তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মাধ্যমে গুগল পে দিয়ে দ্রুত, নিরাপদ এবং স্পর্শবিহীন লেনদেন করতে পারবেন। প্রথমে প্লে স্টোর থেকে গুগল পে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। তারপর সেই অ্যাপে সিটি ব্যাংকের কার্ডের তথ্য দিয়ে সেটি যুক্ত করতে হবে। তারপরই গ্রাহকেরা শুধু স্মার্টফোন ট্যাপ করেই অর্থ লেনদেন করতে পারবে।












Discussion about this post