বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাসের সূচনা হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভা এই রমজান মাসে আনাজপাতি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আলোচনা হল। বরাবরের মতো এবারও রমজান মাস আসতেই নিত্য প্রয়োজনীয় বহু পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। এবার বিএনপি সরকার এটা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে চাইছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনশীল মাত্রায় ধরে রাখা। কোনওভাবেই যাতে বাড়তি দাম নিতে না পারে ব্যবসায়ীরা, সে ব্যাপারে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। তবে যেটা বড় খবর, সেটা হল বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা নিয়ে ১৮০ দিনের ‘নকশা’ তৈরি করে ফেলেছে বিএনপি। দলটির তরফে বলা হচ্ছে, কয়েকদিনের মধ্যেই এই বিষয়টি সর্বসামক্ষে প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বুধবার এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ বাকি আওয়ামী লীগের নেতাদের অপরাধের বিচার কোন পথে হবে সেটাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী।
বাংলাদেশের নতুন আইনমন্ত্রী মোহম্মদ আসাদুজ্জামান, বুধবার তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা সে ভাবেই দেখব। তবে আইনের কোনও অপব্যবহার যদি কোথাও হয়ে থাকে, সেটাও দেখা হবে। অর্থাৎ, হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাসিনার যে বিচার চলছে সেগুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। তারেকের আইনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনের কোনও অপব্যবহার যদি কোথাও হয়ে থাকে, সেটাও দেখা হবে।
যদিও নতুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কার্যত মেনে নিয়েছেন, তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের উপর বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ‘পাহাড়প্রমাণ’। তিনি দাবি করেন, তা পূরণের জন্য নিরন্তর কাজ করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যেরা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যেখানে শেখ হাসিনা এবং তাঁদের দলের নেতাকর্মীদের ফাঁসিকাঠে ঝোলানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের পক্ষে কোনও আইনজীবীকে আদালত কক্ষে দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শেখ হাসিনাও বারবার দাবি করেছিলেন তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ব্রিটেনের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সাংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকীও এই এক দাবি করেছিলেন। তিনি ব্রিটেনের পার্লামেন্টের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছেও একই দাবি করেছিলেন। যা পরবর্তী সময় ব্রিটেনের পার্লামেন্টও মনে নিয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়েছিল বাংলাদেশের। এমনকি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু ইউনূস সরকার কার্যত প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে একতরফা বিচার চালিয়েছে। সে দিক থেকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় যা বলল, সেটা আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার জন্য আশার আলো হতেই পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তারেক রহমানকে যেমন মার্কিন চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তেমনই ভারতের কূটনৈতিক চালও সামলাতে হচ্ছে। ফলে হাসিনা ইস্যুতে আপাতত ধীরে চলো নীতি নিয়ে চলছেন তারেক রহমান। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় এবং বিচার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। যা নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস কোনও হেলদোল দেখাননি। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে ভারত তাঁর অবস্থান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও অনির্বাচিত সরকার নয়, ভারত সরকার যা আলাপ-আলোচনা করবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচত সরকারের সঙ্গে। ফলে এবার এই দায়িত্ব পালন করতে হবে তারেক রহমানকে। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের নতুন আইনমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীদিনে হাসিনা যদি বাংলাদেশেও ফিরে যান, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।












Discussion about this post