প্রতীক্ষার অবসান ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশে। অবশেষে বাংলাদেশের ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠালো ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আদালত। দিন সাতেক আগে এই সেনা সদস্যদের হেফাজতে নিয়েছিল ঢাকার সেনা সদর। ক্যান্টনমেন্টে চরম বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ব্যাপক উত্তেজনায় দিন কাটছে সেনাপ্রধান ওয়াকারের, ক্যান্টনমেন্টারি একটি ভবনকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে রাখা হয় ওই সেনা সদস্যদের। বুধবার সকালে ট্রাইবুনাল ধৃতদের সেখানেই রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নজিরবিহীন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম,এত জন সেনা সদস্যকে কোন ফৌজদারি আদালতে পেশ করা নজির নেই বাংলাদেশে এর আগে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার এতদিন সেনা আদালতে হয়ে এসেছে। এই প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত অফিসারদের পেশ করা হল। যে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য। ভারতীয় সেনা, মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি সেনাদের সিংহভাগ দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর একাংশ সেনা বিচারের অধীনে থাকা কর্মকর্তারা সেনা আদালত ছেড়ে কেন ট্রাইবুনালে বিচার হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি ক্যান্টনমেন্টে একাধিকবার চরম বিক্ষোভ সেনা কর্মকর্তাদের লক্ষণীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং এই বিক্ষোভের মুখ থেকে বাদ পড়েনি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজেও। অনেকেই আশঙ্কা করছেন এর জেরে বড় কোন বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ভেঙে পড়তে পারে শাসনব্যবস্থা এমনকি সবথেকে বড় বিষয় ভেঙে পড়তে পারে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও তথা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বাসভবন ক্যান্টনমেন্ট ও।
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে মামলায় ১৫ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাতে এক নম্বরে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। নাম রয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। ১৫ জন কর্মরত ছাড়াও ১২ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের নাম রয়েছে একই মামলায়। তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে, গুম, গুম খুন সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতেই চরম ক্ষিপ্ত মুজিব কন্যা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পলাতক হাসিনা ভারতে থেকেই চরম বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে। এমনকি সেনাপ্রধান ওয়াকার কে কিভাবে শাস্তি দেওয়া যায় তারও ছক কসছেন বলে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচারের জন্য তৈরি ট্রাইবুনালে তাঁর এবং সেনার সদস্যদের বিচার করা নিয়ে তুমুল অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সরাসরি হাসিনা র অভিযোগ যা তিনি সমাজমাধ্যমে বলেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর এমন হেনস্তা দেখেও সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের নীরবতা বিস্ময়কর। হাসিনা বলেছেন যেভাবে সেনাদের নিশানা করা হচ্ছে তাতে একদিন ওয়াকার কেও টার্গেট করা হবে না কে বলতে পারেন! হাসিনার অভিযোগ সেনাপ্রধান ওয়াকার বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় চূড়ান্ত ব্যর্থ। এবং তিনি এর অভিযোগ তুলেছেন ইউনুসের কুচক্রে সামিল হয়েছে দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার। শুধু তাই নয় বিতর্কে আরো একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে। কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে যে ২৫ জন সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ সরকার মামলা দায়ের করেছে তাঁরা সকলেই শেখ হাসিনার জমানায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এখানেই হাসিনার রক্তচক্ষু হয়ে দাঁড়িয়েছেন সেনাপ্রধান। তাদের কয়েকজন ছিলেন সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই- এর অধিকর্তা। কেউ ছিলেন আধা সেনাবাহিনীর রাবে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যত অপরাধ কি শুধুমাত্র শেখ হাসিনা জামানাতেই করেছে। অতীতে খালেদা জিয়া, এবং দুই সেনাকর্তা হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের সময়ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনসাধারণের উপর নিপীড়ন নির্যাতন খুন হত্যার অভিযোগ ছিল। প্রশ্ন উঠেছে শুধুমাত্র হাসিনা জমানায় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অফিসারদের বেছে বেছে কেন মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে যে আদালতটি গঠন করা হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য। আর এখানেই হাসিনার প্রিয়জন থেকে কি অপ্রিয়জন হয়ে উঠেছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান? বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই প্রশ্ন এখন চারিদিকে ঘোরাফেরা করছে।












Discussion about this post