১০ বছর আগে হওয়া চুক্তি বাংলাদেশের সাথে বাতিল করল ভারত। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নিল ভারত ? বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসে লালমনিরহাট এয়ারবেসে সবচেয়ে বড় একটি লার্জ হ্যাঙ্গার তৈরী করছে। এই লার্জ হ্যাঙ্গার হল পার্কিং লট অর্থাৎ ফাইটার জেট পার্কিং করার জায়গা। এধরণের পার্কিং লট লালমনিরহাট এয়ারবেসে আগে ছিল না। অর্থাৎ শিলিগুড়ির করিডরের কাছে তারা ফাইটার জেট পার্ক করতে চাইছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো তা হল, লালমনিরহাট এয়ারবেস থেকে ভারত – বাংলাদেশের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। আর এইখানেই বাংলাদেশ তাদের দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারবেস পার্কিং লটটি তৈরী করার প্রয়োনীয়তা মনে করল। এ থেকে স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে, তারা নতুন করে মিলিটারি ইনফাস্ট্রাকচার তৈরী করতে চাইছে। বাংলাদেশ এই প্রাগৈতিহাসিক লালমনিরহাট এয়ারবেসটি ব্যবহারই করত না। কিন্তু নতুন করে এমন একটা সময় এইটাকে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেই সময় শিলিগুড়ি করিডর, চিকেনস নেক এই বিষয় গুলি নিয়ে জটিলতা তৈরী হয়েছে। যা ভারতের জন্য উদ্বেগ জনক।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান গত ১৬ ই অক্টোবর লালমনিরহাট এয়ারবেস পরিদর্শনে গেছিলেন। এই এয়ারবেসে পার্কিং লটটি তৈরির কাজ কতদূর এগলো তা তদারকি করতে গেছিলেন। তিনি নিজে এই বিষয়টির সাথে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে লালমনিরহাটে এই লার্জ হ্যাঙ্গারটি তৈরী করছেন ফাইটার জেট গুলি রাখার জন্য। বাংলাদেশ সরকার এই মুহূর্তে পুরোনো আমলের জে ৭ প্লেন ব্যবহার করেন। যা কিছুদিন আগে একটি ক্র্যাশ হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে আরও একটি বিষয় তা হল তারা চীনের থেকে দু ধরণের ফাইটার জেট কিনতে চলেছে। তারা ২ . ২ বিলিয়ন ডলারে ২০ টি জে ১০ সি ফাইটার জেট এবং ১৬ টি জে ১৭ ফাইটার জেট চীনের থেকে কেনার কথা ভেবেছে। মনে করা হচ্ছে এগুলি লালমনিরহাট এয়ারবেসে পার্ক না করে অন্য কোথাও পার্ক করার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এই লালমনিরহাট এয়ারবেসটি চীনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভারত ভেস্তে দেয়। কারণ চীনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে যেত। তার কারণ
চীন এতদিন ধরে চাইছিলো চিকেন নেকসের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে ফলে চীনা মিলিটারি এই স্থানে পৌঁছালে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যেত। পরবর্তীকালে শোনা গেছিল, বাংলাদেশ যে ডেভলাপমেন্টের কাজটা করছে তাতে তারা প্রচুর সংখ্যক চীনা শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছিল। অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে তারা চীনের হাতে এই মিলিটারি ইনফাস্ট্রাকচারটি তুলে দিচ্ছে। যাতে চীন ও পাকিস্তান ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর ও চিকেনস নেকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারের অপদার্থতায় বাংলাদেশকে নিয়ে এখন শুধু ব্যবহার করার খেলা করা হচ্ছে। কখনও পাকিস্তান, কখনও আমেরিকা আবার কখনও চীন ব্যবহার করছে। ভারতকে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া বাংলাদেশের এই মুহূর্তে আর অন্য যে কোনও সদ ইচ্ছা নেই তা প্রমান হয়ে যাচ্ছে।












Discussion about this post