গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে এবার বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল হল। এই আবেদনে সদ্য হয়ে যাওয়া গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা বা রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানে গণভোট আয়োজনের কোনও বিধান নেই এবং নির্বাচন কমিশনের এমন কোনও গণভোট পরিচালনার ক্ষমতা নেই। মোদ্দা কথা তাঁর প্রশ্ন, কেন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। যদিও এই গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আগেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সাংসদ সদস্যরা এমনিতেই গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা করে শপথ নেননি। তাঁদেরও দাবি ছিল এমনই, বাংলাদেশের সংবিধানে এমন কোনও বিধান নেই। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে মুহাম্মদ ইউনূস এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের স্বপ্ন এখন অথৈ জলে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নিত পরিবর্তনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়। হ্যাঁ ভোটে মোট ভোট পড়েছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার, আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। এবার সেই গেজেটে স্থগিতাদেশ চেয়েই রিট আবেদন করেছেন আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এটা কেবল শুরুয়াত। এবার মুহাম্মদ ইউনূসের একের পর এক সিদ্ধান্ত, অর্ডিন্যান্স নিয়েও মামলা দায়ের হবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ফলে বিগত সরকারের বহু কার্যকলাপ আইনের আতসকাঁচের তলায় চলে আসবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত দেড় বছরে বাংলাদেশের আইন-আদালতকে কার্যত হাতের পুতুল হিসেবে প্রতিস্থাপিত করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে শুরু করে অন্যান্য আদালতে নিজেদের লোকজনকে বসিয়ে নিজেদের মতো করেই ফয়সালা করা হতো যে কোনও মামলার। এমনকি বহু ক্ষেত্রে বিবাদি পক্ষের হয়ে কোনও আইনজীবীকেও দাঁড় করাতে দেওয়া হতো না। মব সৃষ্টির মাধ্যমে আদালতে একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হতো ইউনূসের বাংলাদেশে। এখন দেশে বিএনপির সরকার এসেছে। আশা করা হচ্ছে এবার আইনের শাসন ফিরবে। এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়েও হাইকোর্টে রিট হয়েছিল। কিন্তু তা ঠান্ডাঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার হয়তো তা হবে না বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞমহল।
বাংলাদেশের আইনজীবী মহলের একাংশের দাবি, এবার ইউনূস সরকারের নেওয়া বহু সিদ্ধান্ত নিয়েও রিট পিটিশন দায়ের হতে পারে। আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদের দাবি, আমাদের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর কাজ ছিল দেশের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা করা। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি তো অনেক দূরের কথা। কিন্তু ইউনূস সাহেব তা করে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে বিএনপি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। অপরদিকে জামাত, এনসিপি ও অন্যান্য জোট মিলে মোটে ৭৭টি আসন পেয়েছে। ইউনূসকে সামনে রেখে এই জোটই মূলত জুলাই সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করতে গণভোটের আয়োজন করেছিল। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে গণভোটকেই কার্যত বাতিল করতে উঠে পড়ে লেগেছে কিছু মানুষ। প্রবল চাপে জামাত ও এসিপি এখন ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করতেও পারছে না।












Discussion about this post