বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। সেখানে এক গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গোলাগুলি ও সংঘর্ষে নিহত অন্তত তিন জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অনেক। গোটা জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেজর-সহ তেরো জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি-সহ তিনজন পুলিশ সদস্য এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিও উত্তপ্ত। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যত ব্যর্থ, এখনও অনেক এলাকায় ঢুকতেই পারেনি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। এই আবহেই রবিবার মধ্যরাতে এক বিবৃতি জারি করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা আইএসপিআর। ওই বিবৃতিতে খাগড়াছড়ির ঘটনার মূল কারণ-সহ একাধিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাঁরা একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিহত করেছে। যদিও প্রথমদিকে খাগড়াছড়িতে কিছুই হয়নি বলে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ঘটনাকে ভুয়ো খবর বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করছেন, একটি মহল খাগড়াছড়ি পরিস্তিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কি বলছে খাগড়াছড়ির হিংসা নিয়ে? আইএসপিআর ওই বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূল ঘটনার সূত্রপাত গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বরে। ওই দিন খাগড়াছড়িতে এক মোটরসাইকেল চালক হত্যাকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ এবং তাঁদের ঙ্গসংগঠনগুলো দীঘিনালা ও রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। সে সময় এই সংগঠনের কর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত এবং বেশ কিছু এলাকাবাসী আহত হয়েছিলেন। এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ইউপিডিএফ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিল। কিন্তু আগুনে ঘি ঢালে এক পাহাড়ি কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। বাংলাদেশ সেনার দাবি, ওই ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছে। সত্ত্বেও ইউপিডিএফের অঙ্গসংগঠন পিসিপির নেতা উখ্যানু মারমা ‘জুম্ম ছাত্র–জনতার’ ব্যানারে ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদী মানববন্ধনের ডাক দেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে হরতাল পালিত হয়। এ সময় দেশে–বিদেশে অবস্থানরত ব্লগার এবং পার্বত্য অঞ্চলের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে অনলাইনে বাঙালিদের উদ্দেশে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি ঘোরালো করে তোলে বলে দাবি বাংলাদেশ সেনার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই উসকানিমূলক প্রচারণার প্রভাবে পুরো খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সেনাবাহিনীর দাবি, ২৭ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা আবারও দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে বাঙালি-সহ সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। পাশাপাশি ভাঙচুর, অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ এবং রাস্তা অবরোধ-সহ নাশকতা করে সমগ্র খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়েছে। ফলে সামগ্রিক বিষয়টি পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়। অবস্থা বিচারে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ খাগড়াছড়ি ও গুইমারা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। যদিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে তাঁরা বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে চরম ধৈর্যের সঙ্গে সারা রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post