যত কাণ্ড বাংলাদেশে। ভারত-পাক যুদ্ধ আবহ বাংলাদেশেও প্রভাব বিস্তার করেছে। বাংলাদেশি মিডিয়া ফলাও করে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান পেশ করতে ব্যস্ত। পাশাপাশি সে দেশে সদ্য গঠিত ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি ঢাকায় তাঁদের আন্দোলন তীব্র করেছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে। আর এই সমস্ত খবরের জেরে পরিকল্পিতভাবে চাপা দেওয়া হচ্ছে রাখাইন করিডোরের বিষয়টি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘ চাইছে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ত্রাণ সামগ্রী পাঠাতে। যা রাখাইন মানবিক করিডোর বলে দাবি করছে ইউনূস প্রশাসন। কিন্তু বিএনপি, আওয়ামী লিগ-সহ বাংলাদেশের প্রথমসারির দলগুলি এই করিডর দেওয়ার তীব্র বিরোধীতা করছে। তারা মনে করছে, রাষ্ট্রসংঘের আড়ালে আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। আমেরিকার পরামর্শেই রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতারেশ এপ্রিলের গোড়ায় বাংলাদেশ সফরে এসে মানবিক করিডরের প্রস্তাব পেশ করেন। তারপর থেকে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছিলেন, যার মধ্যে সেনাকর্তারাও রয়েছেন।
জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামের কক্সবাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড়সড় লজিস্টিক হাব তৈরি করতে চাইছে। যার আড়ালে তাঁরা একটা বেস স্টেশন তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারতের এক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা ঢাকার গুলশান এলাকার ওয়েস্ট ইন হোটেলে চেক ইন করেছেন বলে দাবি করেছে নর্থইস্ট নিউজ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, রাখাইন করিডোরের বিতর্ক আড়াল করতেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিকে আচমকা তীব্র করা হল। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সাগরেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-সংগঠকরা চাইছেন, দেশের মানুষের মন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই এই পরিকল্পনা। যে এনসিপি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম দোসর, তাঁরাই কেন আচমকা রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে? বৃহস্পতিবার রাতেই এনসিপি-র অন্যতম সংগঠন হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন, তাঁর দাবি, সন্দেহ করছি, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে পুরর্বাসন দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা কোনও ভাবেই আমরা মেনে নেব না।
এনসিপি তাঁদের আন্দোলন তীব্র করতেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও জানিয়ে দিলেন, সাবেক শাসক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি সরকার বিবেচনা করছেন। খুব শিগগির সরকার এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুক্রবার দুপুরেই এক্স হ্যন্ডলে পোস্ট করে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বিবৃতি দিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাখাইন করিডোর নিয়ে তাঁদের গতিবিধি চাপা দিতেই ইউনূস এবং তাঁর অনুগত বাহিনী আওয়ামী লীগকে নিয়ে এই খেলা খেলছে। এই আবহেই ভারতের নর্থইস্ট নিউজ দাবি করেছে, ইতিমধ্যেই মার্কিন বিমানবাহিনীর চার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছেন। খুব শীঘ্রই আকাশপথে “একটি বৃহৎ এবং সংবেদনশীল পণ্যসম্ভার” নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি কার্গো বিমান ঢাকায় অবতরণ করতে চলেছে। নর্থইস্ট নিউজের দাবি, মার্কিন বিমানবাহিনীর চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন লিন আলেকজান্দ্রিয়া যিনি লজিস্টিকস, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক অর্থাৎ তিনি একজন “কমব্যাট মিশন সাপোর্ট কমান্ডার”। দ্বিতীয় জন হলেন, ডেভিড থমাস রেইফেনবার, যিনি ডিএফএস গ্রুপ লিমিটেডের একজন পণ্য বিক্রয় ব্যবস্থাপক এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত বেসরকারি ঠিকাদার। এই দলের তৃতীয় সদস্য হলেন মাইকেল কোডি থ্যাকার, সিনিয়র ডিরেক্টর – ফ্লিট অপারেশনস, লজিস্টিকস, ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট। তিনি ইউরোপ, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন অপারেশনাল ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। এই দলের চতুর্থ সদস্য হলেন ইউএস এয়ারফোর্সের স্টাফ সার্জেন্ট মার্টিন লুকাস ভ্যানরসডাল। সূত্র জানিয়েছে যে এই চার মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা বাংলাদেশের মাটিতে থাকবেন না, খুব শীঘ্রই রাখাইন রাজ্যে যেতে পারেন। তবে সীমান্ত অতিক্রমের আগে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।
আরও জানা যাচ্ছে, মার্কিন সামরিক অফিসারদের প্রায় ২০-২৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় এসে পৌঁছেছিলেন। তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের রামু সেনানিবাসে অবস্থান করেছিলেন। এবং পরবর্তীতে এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের শুরুতে গোপনে রাখাইন রাজ্যে চলে যায়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা শাখার সাথে অবাধ যোগাযোগের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনী ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে পড়েছে। আরও জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। এবং পরদিনই তাঁরা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গেও জরুরি বৈঠক করেন। সবমিলিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস চাইছেন, রাখাইন করিডোরের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে নিজের পিঠ বাঁচাতে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যার থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এবার আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ করার আন্দোলন শুরু করে দেওয়া হল।












Discussion about this post