গত কয়েক দশক ধরে দেখা গিয়েছে, আমেরিকা সহ বিশ্বের ধনী দেশগুলি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির ক্ষেত্রে আমদানি রফতানিতে পণ্যে শুল্কের উপর ছাড় দিয়েছে। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধনী দেশগুলির উপর যেখানে আমেরিকা ১০ থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে, সেখানে ভিয়েতনাম, ইরাক, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ গুলোর উপর ২০ শতাংশের বেশি শুল্ক চাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ভারতকেও চাপে রাখতে চেয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু আদতে আমেরিকারই ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ভারতের বেশ কিছু জিনিসের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। আগামী ২৭ অগাস্ট থেকে আরও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে আমেরিকার তরফে। এবার ভারতীয়দের মার্কিন ভিসা বাতিলের ছেলে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অথৈ জলে পড়ল।
এরই মধ্যে আমেরিকায় চাকরি বা কাজের খোঁজে যাওয়ার জন্য এইচ-ওয়ান আই বি ভিসায় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে খবর। ফরেন লেবার অ্যাকসেস গেটওয়ে বা ফ্ল্যাগ পুরনো সব ভিসা আবেদনপত্র বাতিল করে দিচ্ছে। একইসঙ্গে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ এই প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। যেহেতু ভারত রাশিয়া থেকে সমস্ত তেল কেনে, তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কারণেই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তবে এখানেই শেষ নয়, আরো বড় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে ভারতের উপর। একেবারে স্পষ্ট হুশিয়ারি ট্রাম্পের। জানা যাচ্ছে, ভারতে মার্কিন ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করছে কনস্যুলেটগুলো।
এই সিদ্ধান্তের জেরে হাজার হাজার ভিসাপ্রত্যাশী, প্রবলভাবে সমস্যায় পড়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি এইচ ভিসা, এল ভিসা, এফ এবং এম স্টুডেন্ট ভিসা, ও ভিসা ..এই সমস্ত বিভাগের ড্রপবক্সের যোগ্যতা শেষ হয়ে যায়, তবে নতুন করে নবীকরণের জন্য সশরীরের সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত হতে হবে।
এমনকি বলা হচ্ছে, এই মুহূর্তে গ্রাহকদের অ্যাপোয়েন্টমেন্ট গুলি বাতিল হয়েছে কিনা তার জন্য সঠিক সময় যাচাই করে নিতে। প্রয়োজনে ইমেলটি চেক করতে হবে আবেদনকারীদের। এমনকি দরকার পড়লে নতুন করে ভিসা প্রোফাইলটি লগ ইন করতে হবে।
এছাড়াও ভিসা ফের বৈধতার সতর্কতা হিসাবে বলা হয়েছে,
যদি কোনও আবেদনকারী ৩৫৬ দিনের আগে ভিসা ফি পরিশোধ করে থাকে, তবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। কনস্যুলার পোস্ট যদি মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি না দেয়, তবে তাকে আবার পেমেন্ট করতে হবে।
এমনকি বলা হয় যদি আবেদনকারীর পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়, তবে কনস্যুলার সাপোর্ট ডেস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট মিস করা থেকে এড়িয়ে যেতে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের নিয়মিত তাদের ইমেল এবং ভিসা প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ড্রপবক্স বা ভিসা ইন্টারভিউ ওয়েভার হল একটি প্রক্রিয়া। সেখানে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে কনস্যুলেটে গিয়ে ভিসা ইন্টারভিউ দিতে হয় না। মূলত যারা একই ধরনের ভিসা পুনর্নবীকরণ করছেন এবং যাদের সময়সীমা মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এই বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানানো হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বা কারিগরিগত ত্রুটির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ক্রমাগত মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটগুলিতে নজর রাখতে এবং নতুন স্লট বুকিং শুরু হলে দ্রুত আবেদন করতে।












Discussion about this post