সদ্য ব্রিটেন সফর সেরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। সেই আবহেই শোনা যায়, মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত লন্ডনের আইনের সংস্থার চেম্বার এর তরফ থেকে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বিদেশ সফরে গিয়ে বিদেশী পরিকল্পনার ফাঁদে করতে হল ইউনুসকে। তবে কি এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিন গোনা শুরু?
ব্রিটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা ডাউটি স্ট্রিট মূলত এই চেম্বারটি ফৌজদারি বিচার, পাবলিক আইন, অভিবাসন, কর্মসংস্থান, মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার মতো বিষয়ে কাজ করে। এই আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্ম লগ্ন অর্থাৎ ১৯৯০ থেকেই সংস্থায় ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এমনকি সারা বিশ্বের আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ক্লায়েন্টদের জন্য পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করে এই সংস্থা। ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার কোর্টের পর আরেকটি বিদেশী সংস্থা ডাউট স্ট্রিট এবার মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ যোগাড় করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
মূলত যে অভিযোগ গুলিতে এই মামলা দায়ের করা হতে পারে সেই বিষয়গুলি এই সংস্থার ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তারা জানাচ্ছে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রহণের পর একাধিক সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা, সংখ্যালঘু মানুষ এবং শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসংখ্য বিনা উস্কানিতে এবং সহিংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নিপীড়ন নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার ধর্ষণ সবকিছুই ঘটতে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এমনকি দেশজুড়ে শুরু হয়েছে মব কালচার। এই অভিযোগগুলোর জন্য অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে বাংলাদেশের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনটাও জানানো হয় এই হামলার প্রকৃত ইঙ্গিত দেয় যে, এগুলো প্রশাসনিক সর্বোচ্চ স্তরে পরিকল্পিত ছিল। এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার কোর্টে সংবিধি একটি বিশেষ অনুচ্ছেদের অধীনে হত্যা, নিপীড়ন, বাক স্বাধীনতা এগুলি গুরুতর মানবতা বিরোধী অপরাধের সমতুল্য। আর ডাউটি স্ট্রিটের ১৫ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশে এই অত্যাচারিত দের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আর এই মামলাটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী সংস্থার তরফ থেকে করা হচ্ছে কোন ব্যক্তি ভিত্তিক মামলা নয়। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস ক্ষমতায় থেকে মোহাম্মদ ইউনুস যেভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ তুলে এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছে ঠিক একইভাবে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইউনুস এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। এতে প্রধান উপদেষ্টার ভাবমূর্তি বর্তমান বাংলাদেশের কোথায় অবস্থান করবে তা নিয়েই চিন্তিত অন্তর্বর্তী সরকার।












Discussion about this post