বাংলাদেশে ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর, তিনি এক বিরাট আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলাদেশে এক একটি বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে আসবেন সেই কথাই শুধু প্রচার করেননি। একটা সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বাংলাদেশের মূল ধারার গণ মাধ্যমগুলিতে প্রচার করা হচ্ছিল ইউনুস ম্যাজিকের কথা। আর এই প্রচার ও প্রচারণায় অগ্রাধিকার মোহাম্মদ ইউনুসের। আর এই ধরনের প্রচারকদের চাপেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম গুলি বেশ কিছু মাস ধরেই প্রচার করতে বাধ্য হলো বাংলাদেশ নাকি আসিয়ানের সদস্য পদ পেতে চলেছে। কিন্তু এবার মোঃ ইউনুসের আদর্শ মাহাথির মোহাম্মদের বক্তব্য যেন নতুন জল্পনা সৃষ্টি করল বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলির যে জোট আসিয়ান সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ কিভাবে যোগ দিতে পারে। অন্তত মোঃ ইউনূসের আবদারে কখনোই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ান এটা মেনে নেবে না যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ এই জোটের সদস্য হতে পারে। আর এই বিষয়ে সরকারের তরফা জানানো হয়েছিল মোহাম্মদ ইউনুস বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে থাইল্যান্ড পৌঁছে স্থায়ী বিশিষ্ট জনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়। সেই সময় বিশিষ্টজনেরা বাংলাদেশের এই আবেদনে সমর্থন জানান। আমি কি কত অক্টোবর মাসে মোঃ ইউনুছের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
সেই সময় তাদের বৈঠক শেষে যে প্রেসব্রিফিং হলো সেখান থেকেও মূল সংবাদ এবং শিরোনাম হিসেবে উঠে আসলো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কে মুহাম্মদ ইউনুস আবেদন জানিয়েছেন যাতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে আসিয়ানের সদস্যপদ দিতে সমর্থন দেয়। তোর সেই সময় সরকারের তরফ থেকে ভারতকে টেক্কা দেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেলো মুহাম্মদ ইউনুস অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য আসিয়ানের দেশগুলির কাছে আবেদন করছেন না। আচ্ছা যেমনটা দেখা গিয়েছে দীর্ঘ সময় মুক্ত বাণিজ্যের আলোচনায় এবং কৌশলগত অংশীদারীত্বের জন্য যে বাণিজ্যিক এবং জোরালো সম্পর্ক আছে ভারত এবং আসিয়ান এর মধ্যে সেই পথে হাঁটেননি মোহাম্মাদ ইউনুস। তিনি তার প্রচারিত ইউনুস মাজিকের দ্বারাই আসিয়ানের সদস্য পদ লাভ করার আশা করতে শুরু করলেন। আর তার প্রচারকেরা ঢালাও প্রচারে নামল যে বাংলাদেশ নাকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির জোট আসিয়ানের সদস্য হতে চলেছে।
এখন মাহাথির মোহাম্মদ যিনি মালয়েশিয়ার রাজনীতির প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মালয়েশিয়ার দীর্ঘ ২৪ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ সামলানোর পর সম্প্রতি তিনি ব্রিটেনের আইটিভিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আর এই সাক্ষাৎকারের সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ও তাকে প্রশ্ন করে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য বেশ জোরালো আবেদন জানাচ্ছে এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন মাহাথি। এর উত্তরে তিনি জানান এটা খুবই চিন্তার বিষয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি চোর আসিয়ানের যদি দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশকে সদস্যপদ দেওয়া হয় তবে তো সেখানে যে কাউকে নেওয়া হয়ে যাবে আর সেটি জাতিসংঘে পরিণত হয়ে যাবে। সকল দেশের অংশগ্রহণে একটি জোট জাতিসংঘ হয়ে উঠবে এটি আর আঞ্চলিক জোট থাকবে না।
মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস কোন ভিত্তিতে এই প্রচার চালাতে শুরু করলেন। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করেই বিভিন্ন দেশে পৌঁছে সভা সমাবেশ করছিলেন এবং তাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছিলেন যাতে তারা বাংলাদেশকে আসিয়ানের সদস্য পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমর্থন জানায়। কিন্তু তিনি একবারও বিবেচনা করেননি, যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটে কেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হবে।
এরপর মালেশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথি মহম্মদের ওই সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের তরফে মোহাম্মদ ইউনুস সম্পর্কেও বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। এবং বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন মোহাম্মদ ইউনুস মাহাথী মোহাম্মদকে তার আদর্শ মনে করেন। ফলে অনেকেই দাবি করেছিলেন মাহাথী মোহাম্মদ যেভাবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে একটি পরিপক্ত জায়গায় নিয়ে গিয়েছে ঠিক একই ভাবে তার আদর্শ অবলম্বন করে মোহাম্মদ ইউনুসও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উন্নত করতে সফল হবেন। কিন্তু মাহাথির মোহাম্মদ মোহাম্মদ ইউনুস প্রসঙ্গে খুব বেশি উচ্ছ্বাস দেখাতে পারেনি সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস, যিনি নোবেল পাওয়ার যোগ্য কিন্তু তিনি কখনোই রাজনীতিতে আসবেন বা প্রধানমন্ত্রী হবেন এই বিষয়টি ভাবনার বাইরে। পাশাপাশি তার বক্তব্যে স্পষ্ট তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বদা নজর রেখেছেন। এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন শাসনামলে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ নয়। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ নানারকম আদর্শগত অবস্থান নিতে শুরু করেছে।












Discussion about this post