দেবীপক্ষে প্রকৃতির রোষে অসুররূপী বৃষ্টিতে বিপদজ্জনক পরিস্থিতি কলকাতা শহর সহ শহরতলি। টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় কলকাতা সহ লাগোয়া জেলাগুলি। কলকাতায় পদে পদে মৃত্যু ফাঁদ। জল জমেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এলাকাতেও। নবান্নে খোলা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম ও। এক রাতে কলকাতায় বৃষ্টির পরিমান ছাড়িয়েছে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার। যার ফলে জীবনহীন হয়ে পরে কলকাতার রাস্তা থেকে শুরু করে বাস ট্রাম অটো লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো পরিষেবা। থমকে গেছে ঠাকুর দেখতে যাওয়া ও পুজোর কেনা কাটা। বৃষ্টিতে অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় জমা জলে বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। এ বিষয়ে ফিরহাদ হাকিমের সাফাই, এর আগে ল্যাম্পপোস্টে হাত দিলে তড়িতাহিত হয়ে মৃত্যু হতে দেখেছ। এখন তো জল জমলেই সেই জলেই বিদ্যুৎ হয়ে যাচ্ছে। জলযন্ত্রণা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, বিকাশ ভট্টাচার্যের সময় কেইআইআইপির কাজ হয়নি। রাস্তায় নেমে কাজ করা কঠিন। সমালোচনা করা সহজ। আপনার সময় কলকাতা কি ছিল এখন কি তা সবাই জানে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সিএসসি র কর্ণধারের সাথে কথা বলেছি। সিএসসি তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেনা। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছি যদিও মৃত্যুর বিকল্প ক্ষতিপূরণ নয়।
প্রবল বৃষ্টিতে লাইনে জল জমে থাকার কারণে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাওড়া ও শিয়ালদহে ব্যাহত হয় লোকাল ট্রেন পরিষেবা। পাশাপাশি বিঘ্নিত হয় মেট্রো রেল পরিষেবাও। লাইনে জল ঢুকে যাওয়ার কারণে বন্ধ করে দেয়া হয় মেট্রো রেল পরিষেবা। লাইনে জল থাকার কারণে শহীদ ক্ষুদিরাম থেকে ময়দান পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভাঙা পথে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান স্টেশন পর্যন্ত পরিষেবা চালু ছিল। চারিদিকে জল জমে থাকার কারণে লোকাল ট্রেন বাস মেট্রো সকল পরিষেবাই বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন নিত্য যাত্রীরা।
কলকাতায় নজিরবিহীন বৃষ্টিতে ভেসে গেছে একাধিক পুজো প্যান্ডেল। কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালাচ্ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মেয়র বলেন, কলকাতায় জন্মেছি কিন্তু এরকম বৃষ্টি প্রথম দেখলাম। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। উত্তরাখন্ড ও কাশ্মীরে এরকম বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু কলকাতায় এই প্রথম। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে, নদী পুকুর খাল উপচে পড়ছে। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেমে জল ফেলতে গেলে তা আবার ব্যাক ফ্লো হয়ে শহরে ঢুকে পড়ছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। পুরসভার পক্ষ থেকে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষদের জন্য স্কুলে আশ্রয় ও খাওয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।












Discussion about this post